সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে ইন্টারনেট দুনিয়ায় রীতিমতো ঝড় উঠেছে। ভিডিওটিতে দাবি করা হয়েছে, দুই তরুণ ভারতীয় রেলের ট্রেনে ভিক্ষে করার এক ‘এক্সপেরিমেন্ট’ করেছিলেন। আর তাতে নাকি মাত্র দু'ঘণ্টার মধ্যে তারা তুলে নিয়েছে ৬,২০০ টাকা! এই চমকপ্রদ অঙ্ক সামনে আসার পরই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অনেকেই এই বিপুল পরিমাণ টাকা দেখে যেমন অবাক হয়েছেন, তেমনই ভিডিওটির সত্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনদের একাংশ।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও অনুযায়ী, দুই ইনফ্লুয়েন্সার ট্রেনে উঠে ভিক্ষে করতে শুরু করেন। তাদের মধ্যে একজন আবার শারীরিক প্রতিবন্ধকতার অভিনয় করে খোঁড়াতে থাকেন। মাত্র দু'ঘণ্টা যাত্রীদের কাছে হাত পাতানোর পর তারা যখন টাকা গুণতে শুরু করেন, তখন তাদের চোখ কপালে ওঠে। মোট জমানো টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৬,২০০ টাকা। এরপর ভিডিওটিতে একটি হিসাব কষে দেখানো হয় যে, প্রতিদিন মাত্র দু'ঘণ্টা করে ভিক্ষে করলেই নাকি মাসিক আয় হতে পারে প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা!

 

?utm_source=ig_web_button_share_sheet

ভিডিওটিতে আরও দাবি করা হয় যে, যাত্রীরা সাধারণত প্রতিবন্ধী বা বেশি দরিদ্র দেখলেই বেশি টাকা দান করেন। তবে এই দাবিগুলোর কোনও সত্যতা বা প্রমাণ নেই। এই ভাইরাল ভিডিওটি সামনে আসার পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

দর্শকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, ভিডিওতে দেখানো এই পরিমাণ টাকা সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য এবং ভিউ পাওয়ার জন্য তথ্য বাড়িয়ে বলা হয়েছে। এত অল্প সময়ে এত টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।আবার  সোশ্যাল মিডিয়ার অনেক ইউজারদের মতে, ভিউ এবং লাইক পাওয়ার লোভে আজকাল ইউটিউবার বা ইনফ্লুয়েন্সাররা এ ধরনের চটকদার ও অতিকথামূলক কন্টেন্ট তৈরি করে থাকে। তাই এসব ভিডিও অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে সবসময় সত্যতা যাচাই করা উচিত।

সামাজিক আন্দোলন ও সমাজকর্মীরা এই ধরনের ভিডিওর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, ভিক্ষাবৃত্তি কোনও হাসির খোরাক বা ব্যবসার বিষয় নয়। দারিদ্র্য, গৃহহীনতা, গুরুতর অসুস্থতা, শারীরিক অক্ষমতা কিংবা চরম সামাজিক পরিস্থিতির কারণে মানুষ এই পেশায় বাধ্য হয়। তাই এই সংবেদনশীল বিষয়টিকে শুধুমাত্র ‘টাকা আয় করা’-এর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা একদমই উচিত নয়। প্রকৃত অভাবী ও সাহায্যপ্রার্থীদের সাহায্য করার জন্য সার্টিফাইড প্রতিষ্ঠান এবং সমাজকল্যাণমূলক সংস্থার মাধ্যমেই এগিয়ে আসা বেশি কার্যকর।