কথায় কথায় লাগবে না কোনও ওষুধ। স্রেফ এই কাজটা করলেই সুস্থ হবেন দ্রুত। কী? নিজের সঙ্গে কথা বলা।
অনেকেই ভাবেন নিজের সঙ্গে কথা বলা হয়তো মতিভ্রম হওয়ার লক্ষণ। কিন্তু আদতে গবেষণায় দেখে যাচ্ছে নিজের সঙ্গে নিজে কথা বললে তার প্রভাব কেবল যে মস্তিষ্কে পড়ে সেটাই নয়, বরং গোটা শরীরেই তার ভাল প্রভাব দেখা যায়।
সাইকোনিউমারোলজির গবেষণায় দেখা গিয়েছে নিজের সঙ্গে যদি আপনি ইতিবাচক কথা বলেন, ইতিবাচক কোনও ভাবনা নিজের মনে মনে ঝালিয়ে নেন সেটা স্বাস্থ্যের উপর ভাল প্রভাব ফেলে। নিজেকে ভালবেসে, নিজের তারিফ করলে, আবেগ নিয়ে নিজেকে নিজে কোনও কথা বললে সেটা কর্টিসল কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে বাড়িয়ে দেয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। নিজের সঙ্গে আপনি যত বেশি কথা বলবেন তত আপনার প্যারাসিম্প্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম অ্যাক্টিভেট হবে। আর এই প্যারাসিম্প্যাথেটিক সিস্টেম কিন্তু বিশ্রাম এবং মেরামতের কাজে সাহায্য করে। ফলে ওই ঘুরিয়ে নাক দেখানোর মতো, নিজের সঙ্গে নিজে কথা বললে তার সুফল ভোগ করবেন আপনিই।
প্রকাশিত হওয়া একটি জনপ্রিয় গবেষণা পত্রে দাবি করা হয়েছে যে, সেই গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে ব্যক্তিরা নিজের প্রতি ভালবাসা দেখান, যত্ন নেন তাঁদের স্ট্রেস অনেক কমে যায়। কেন? কারণ এটি স্ট্রেস হরমোন রেসপন্স কমিয়ে দেয় এবং বাড়িয়ে দেয় শরীরের ভাল প্রদাহ প্রোফাইল। আর যাঁরা সবসময় নিজেকে কটাক্ষ করেন, নিজে খুঁত ধরেন তাঁদের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টোটা ঘটে।
ফ্রনটিয়ার্সে প্রকাশিত হওয়া সাইকোলজির একটি গবেষণায় জানানো হয়েছে নিজেকে নিজে নির্দেশ কিছু কথা বললে বা অনুপ্রেরণামূলক কোনও কথা নিজের সঙ্গে বললে সেটা ফিজিক্যাল পারফরমেন্সকে উন্নত করে এবং অকারণ ভাবনা চিন্তা করে হওয়া মাথা ব্যথা কমায়।
এই গবেষণাগুলো থেকে এটাই যেন কোথাও গিয়ে বারবার প্রমাণিত হয়েছে মস্তিষ্ক এই নিজেকে নিজে বলা কথাগুলো বায়োলজিক্যাল নির্দেশ হিসেবে নেয়। তাই যখনই আপনি নিরাপত্তা, উৎসাহ দেওয়ার মতো কোনও কথা বলবেন বা নিজের যত্ন নেওয়ার ভাবনা রাখবেন তখনই আপনার স্নায়ুতন্ত্র সারভাইভাল মোড থেকে বেরিয়ে ভাল ভাবে বাঁচা, সুস্থতার পথে এগোবে। এটার নেপথ্যে কোনও ম্যানিফেস্টেশন নেই, যে আমি এটা চাইলাম, তাই হল। যেটা ঘটে তার নেপথ্যে থাকে নিউরোসায়েন্স।
