বাঙালি বাড়িতে পিঠে-পুলি মানেই গুড়ের মিষ্টি সুবাস। এর স্বাদে সকলেই মেতে ওঠেন। রিফাইন্ড চিনির তুলনায় গুড়কে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর মনে করা হয়। গুড়ে প্রাকৃতিকভাবে থাকে আয়রন, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম ও প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

নিয়মিত গুড় খেলে হজমশক্তি ভাল থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে। শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণে গুড় কার্যকর ভূমিকা রাখে, ফলে রক্তাল্পতার ঝুঁকিও কমে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। শীতকালে সর্দি, কাশি, ঠান্ডা লাগা বা ফ্লুর উপসর্গ কমাতেও গুড় উপকারী বলে মনে করা হয়। সব মিলিয়ে গুড়ের রয়েছে একাধিক স্বাস্থ্যগুণ।

তবে বর্তমানে বাজারে রাসায়নিক মেশানো ভেজাল গুড়ও সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। এই ধরনের গুড়ের রং, স্বাদ ও গঠনে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যায় এবং তা খেলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। খোলা বাজার বা ঠেলাগাড়ি থেকে যদি গুড় কেনা হয়, তাহলে প্রথমেই তার গন্ধ পরীক্ষা করা জরুরি। গুড় আখ থেকে তৈরি হওয়ায় খাঁটি গুড়ে আখের স্বাভাবিক মিষ্টি গন্ধ থাকবে। কিন্তু ভেজাল গুড়ে কেমিক্যালের মতো তীব্র বা অস্বস্তিকর গন্ধ পাওয়া যায়। গন্ধ ভাল না লাগলে সেই গুড় খাওয়া উচিত নয়।

গুড়ের রং দেখেও আসল ও নকল চেনা যায়। খাঁটি গুড় সাধারণত গাঢ় বাদামি বা কালচে রঙের হয়, আর ভেজাল গুড় অনেক সময় হালকা হলুদ বা অতিরিক্ত উজ্জ্বল দেখায়। অনেক ক্ষেত্রে গুড়ে চুন মেশানো হয়, যার ফলে রং হালকা বা চকচকে হয়ে যায়। এছাড়া ওজন ও মিষ্টতা বাড়ানোর জন্য কখনও কখনও চিনি, গ্লুকোজ, চালের গুঁড়ো বা ভুট্টার আটা মেশানো হয়।

আসল গুড় চিনতে আরেকটি সহজ উপায় হল হাতে ঘষে দেখা। গুড়ের একটি ছোট টুকরো হাতের তালুতে ঘষলে যদি সেটি শক্ত থাকে এবং সহজে না ভাঙে, তাহলে তা খাঁটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু ঘষতেই যদি ভেঙে যায় বা আঠালো হয়ে হাতে লেগে থাকে, তাহলে সেটি ভেজাল হতে পারে। এমন গুড় খাওয়া থেকে বিরত থাকাই ভাল।
এছাড়া গুড় জলে দিয়ে পরীক্ষাও করা যায়। খাঁটি গুড় জলে ধীরে ধীরে গলে এবং জলে কোনও ময়লা বা অবশিষ্টাংশ দেখা যায় না। কিন্তু ভেজাল গুড় খুব দ্রুত গলে যায় এবং জলের তলায় সাদা গুঁড়ো, বালি বা অন্য কোনও কণা জমে গেলে বুঝতে হবে তাতে ভেজাল রয়েছে।
গুড় কেনার আগে সামান্য চেখে দেখাও জরুরি। স্বাদে যদি তিক্ততা বা হালকা নোনতা ভাব থাকে, তাহলে বুঝতে হবে এতে সোডা বা রাসায়নিক মেশানো হয়েছে। আর যদি স্বাদে স্বাভাবিক মিষ্টি ও আখের স্বাদ পাওয়া যায়, তাহলে সেই গুড় নিশ্চিন্তে কেনা যেতে পারে।