প্রতিদিন নিয়ম করে সানস্ক্রিন মাখছেন, তবু গাল-নাক-কপালে ভেসে উঠছে ঘন বাদামি ছোপ। গরমে ত্বকে মেচেতার কালো দাগ এখন প্রায় সকলের৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যা সানস্ক্রিনে নয়, সমস্যা সানস্ক্রিন ব্যবহারের ধরন ও ধারণায়।

বহু মানুষ ভাবেন, সানস্ক্রিন মানেই আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে সুরক্ষা। অথচ মেচেতা ও পিগমেন্টেশন বাড়ায় আরও দু’টি জিনিস — দৃশ্যমান আলো (বিশেষত নীল আলো, বা HEV) এবং তাপ। সানস্ক্রিন আটকায় শুধু আলট্রাভায়োলেট রশ্মি, কিন্তু পিগমেন্টেশনের জন্য দায়ী দৃশ্যমান আলো ও তাপও। ভারতীয় ত্বকের জন্য কী করণীয়, জানালেন বিশেষজ্ঞরা। 

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এসপিএফ ৫০ বা তার বেশি যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে৷  মিনারেল বা ফিজ়িক্যাল ফর্মুলা (জ়িঙ্ক অক্সাইড, টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড) এবং অবশ্যই ‘টিন্টেড’ — অর্থাৎ আয়রন অক্সাইড-যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভাল। 

কতটা, কতবার

মুখের জন্য অন্তত এক চা-চামচ পরিমাণ সানস্ক্রিন প্রয়োজন। প্রতি দু’ঘণ্টা অন্তর, বিশেষত ঘাম হলে বা মুখ ধোয়ার পর পুনরায় সানস্ক্রিন মাখতে হবে। 

সানস্ক্রিনই একমাত্র অস্ত্র নয়।  মুখ রোদ থেকে বাঁচে এমন টুপি, UV-প্রতিরোধী সানগ্লাস, যথাসম্ভব ছায়ায় থাকা, সব মিলিয়ে ত্বক ভাল থাকবে৷  

ঠাকুমার আমলের বেসন-হলুদ-লেবুর টোটকা বহু বাঙালি বাড়িতে আজও প্রচলিত। কিন্তু লেবুর মতো অ্যাসিডিক উপাদান ত্বকে লাগিয়ে রোদে বেরোলে হিতে বিপরীত হতে পারে। পিগমেন্টেশন আরও বাড়ে। গরমে ত্বকের যত্ন মানে ‘ফর্সা’ হওয়ার তাড়া নয়, বরং সূর্য-জনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা ও ত্বকের সমতা ধরে রাখা। সঠিক সানস্ক্রিন, ছাতা-টুপি, প্রচুর জল এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ — এটাই গ্রীষ্মের ত্বকের জন্য সবচেয়ে বিশ্বস্ত রুটিন।