২০২০ সালের অগস্ট। শ্বাসকষ্ট আর ফুসফুসে জল জমার সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল সঞ্জয় দত্তকে৷ রিপোর্টে ধরা পড়ল, স্টেজ ফোর ফুসফুসের ক্যানসার। গোটা বলিউড তখন স্তব্ধ। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়িয়ে সঞ্জয় দত্ত জানিয়েছিলেন, তিনি ক্যানসারমুক্ত। ছ'বছর পরে সেই কঠিন সময়ের কথা ফের ভাগ করে নিলেন অভিনেতা। আর ক্যানসার আক্রান্তদের উদ্দেশে দিলেন এক অন্যরকম বার্তা।
সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় সঞ্জয় বলেন, "শরীরের ভিতরের ক্যানসারটাকে ভাইরাল ফ্লু-র মতো ভাবুন। কখনও দুশ্চিন্তা করবেন না। লড়াই করুন। চিকিৎসকরাই আপনাকে এর বাইরে বের করে আনবেন।" অভিনেতার মতে, রোগ নির্ণয়ের পর মানসিকভাবে ভেঙে না পড়াটাই ছিল তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। তাঁর কথায়, "আপনাকে যোদ্ধা হতে হবে। এভাবে হাল ছেড়ে দিলে চলবে না।" জীবনের যে কোনও প্রতিকূলতাকেই এড়িয়ে না গিয়ে সামনে থেকে মোকাবিলা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
মুম্বইয়ে কেমোথেরাপি-সহ পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার পর ২০২০ সালের অক্টোবরে অভিনেতা জানিয়েছিলেন, তিনি ক্যানসারকে হারিয়েছেন। চিকিৎসক জানান, সম্প্রতি হওয়া স্ক্যানের রিপোর্টেও সঞ্জয় দত্ত ক্যানসারমুক্ত বলেই ধরা পড়েছে। অভিনেতাকে ক্যানসার রোগীদের কাছে এক অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এই প্রসঙ্গেই উঠে আসে সঞ্জয়ের মা, কিংবদন্তি অভিনেত্রী নার্গিসের কথা। প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। সঞ্জয় জানান, সেই সময় দেশে উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামো ছিল না, তাই পরিবারকে ছুটতে হয়েছিল নিউ ইয়র্কে। কিন্তু অসুস্থ শরীরেও মায়ের জেদ ছিল অটুট। ছেলের ছবির মুক্তির কাজ শেষ করতে তাঁকে দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য জোর করেছিলেন নার্গিস নিজেই। অভিনেতার কথায়, "উনি লড়াই করে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন। ওঁকে দেখেই আমি বুঝেছিলাম, সাহস আসলে কাকে বলে।"
ক্যানসার সেরে যাওয়ার পর ফের পুরোদমে কাজে ফিরেছেন সঞ্জয়। শুধু হিন্দি নয়, দক্ষিণী-সহ একাধিক ভাষার ছবিতে ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। জীবনের নানা ঝড় পেরিয়ে আসা এই অভিনেতার লড়াইয়ের কাহিনি আজও বহু মানুষকে ভরসা জোগায়।
তবে চিকিৎসকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সঞ্জয়ের এই বার্তা মূলত মানসিক দৃঢ়তার কথা বলে, রোগকে হালকাভাবে নেওয়ার কথা নয়। ফুসফুসের ক্যানসারের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা অকারণে ওজন কমার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ আধুনিক চিকিৎসায় স্টেজ ফোর ক্যানসার থেকেও মানুষ সুস্থ হচ্ছেন৷
















