আজকাল ওয়েবডেস্ক: শয্যায় ভালো হওয়া মানেই বিশেষ কোনও গোপন কৌশল বা নিখুঁত শারীরিক দক্ষতা, এই ধারণা এখন পুরোনো। সম্পর্ক ও যৌনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সত্যিকারের সন্তোষজনক ঘনিষ্ঠতার ভিত্তি গড়ে ওঠে পারস্পরিক যোগাযোগ, মনোযোগ এবং আন্তরিক আগ্রহের উপর। অভিজ্ঞতা ও গবেষণার আলোকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু স্বাভাবিক লক্ষণ থেকেই বোঝা যায় একজন মানুষ শয্যাসঙ্গী হিসেবে আদৌ কতটা ভালো।

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যাঁরা শয্যায় সঙ্গীকে তৃপ্ত করতে পারেন, তাঁদের আলাদা করে উদ্যোগ নিতে হয় না। সঙ্গীই বারবার ঘনিষ্ঠতার প্রস্তাব নিয়ে আসেন। এটি আসলে আগের অভিজ্ঞতার প্রতিফলন যা ভালো লেগেছে বলেই মানুষ তা আবার চাইছে। একইভাবে, শয্যার বাইরে সারাদিনের ছোট ছোট ছোঁয়া, খুনসুটি বা ঘনিষ্ঠ আচরণও বড় ইঙ্গিত দেয় যে আকর্ষণ এখনও সক্রিয় এবং গভীর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো অভিজ্ঞতা সাধারণত নিঃশব্দ থাকে না। স্বাভাবিক শব্দ, স্বস্তির নিঃশ্বাস বা আনন্দের প্রকাশ বোঝায় যে সঙ্গী মুহূর্তে উপস্থিত এবং তা উপভোগ করছেন। তবে শুধু সেই সময়টুকু নয় ঘনিষ্ঠতার পরেও আচরণ অনেক কিছু বলে দেয়। আলাপ, আলিঙ্গন, কাছে থাকার ইচ্ছা মানে মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য ও তৃপ্তি। এর বিপরীতে, হঠাৎ দূরে সরে যাওয়া বা ফোনে ডুবে যাওয়া অনেক সময় অস্বস্তির ইঙ্গিত হতে পারে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আস্থা। যখন সঙ্গী নিজের পছন্দ, কৌতূহল বা ব্যক্তিগত ইচ্ছার কথা খোলাখুলি বলেন, তখন বোঝা যায় সম্পর্কের ভিত মজবুত। একই সঙ্গে পরস্পরের ইচ্ছাকে সম্মান করে এগোনোর মানসিকতাই ঘনিষ্ঠতাকে আরও গভীর ও আনন্দময় করে তোলে। এমনকি বহু বছর পরেও যদি কোনও পুরোনো সঙ্গী যোগাযোগ রাখেন বা ফিরে আসতে চান, সেটিও বিশেষজ্ঞদের মতে এক ধরনের নীরব প্রশংসা অভিজ্ঞতাটি স্মরণীয় ছিল বলেই।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো শোনা ও বোঝার ক্ষমতা। ভালো শয্যাসঙ্গী মানেই এমন কেউ, যিনি কথায় বা ইঙ্গিতে সঙ্গীর প্রতিক্রিয়া বুঝে নিতে পারেন কখন ধীরে, কখন থামা, কখন পরিবর্তন দরকার। সব কিছু মুখে বলে দিতে না হলেও যদি আপনি তা অনুভব করতে পারেন, তবে সেটিই প্রকৃত দক্ষতা।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, তাড়াহুড়ো না করা, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের উপস্থিতিকে গ্রহণ করা এবং আন্তরিক আবেগ নিয়ে মুহূর্তে থাকা এই বিষয়গুলোই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। কোনও নির্দিষ্ট কৌশল নয়, বরং যত্ন, আগ্রহ ও পারস্পরিক বোঝাপড়াই শয্যায় ‘ভালো’ হওয়ার আসল মানদণ্ড।