শুরুটা একেবারে সাধারণ জ্বরের মতো। হালকা গা, হাত-পা ব্যথা, ক্লান্তি, মাথা ধরার মতো সমস্যা দেখা দেয়। অনেকেই ভাবেন, ঋতু বদলের ভাইরাল জ্বর বা ফ্লু হয়েছে।
2
10
চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, এই সাধারণ উপসর্গের আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে ভয়ঙ্কর হান্টাভাইরাস। সময়মতো চিকিৎসা না হলে খুব দ্রুত কিডনি, ফুসফুস এবং শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বিকল হয়ে যেতে পারে।
3
10
হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়ায়। ইঁদুরের মল, প্রস্রাব বা লালায় এই ভাইরাস থাকে। পুরনো ঘর, গুদাম, স্টোররুম বা ধুলো জমে থাকা জায়গায় পরিষ্কার করার সময় ভাইরাস বাতাসে মিশে যেতে পারে। সেই দূষিত বাতাস শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকলেই সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে যেখানে ইঁদুরের উপদ্রব বেশি, সেখানে সতর্ক থাকা জরুরি।
4
10
এই রোগের প্রথম দিকের লক্ষণ খুব সাধারণ। যেমন জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, শরীর দুর্বল লাগা, বমিভাব, পেট ব্যথা বা ডায়রিয়া এই কারণেই অনেকে প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই রোগ ভয়ঙ্কপ রূপ নিতে পারে।
5
10
চিকিৎসকদের মতে, এই ভাইরাস শরীরের রক্তনালিতে আক্রমণ করে। ফলে রক্তনালি থেকে তরল বেরিয়ে গিয়ে কিডনি ও ফুসফুসের ওপর চাপ পড়ে।
6
10
কিডনি আক্রান্ত হলে প্রস্রাব কমে যেতে পারে, শরীর ফুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং রক্তে বিষাক্ত পদার্থ জমতে শুরু করে। গুরুতর অবস্থায় কিডনি পুরোপুরি কাজ বন্ধও করে দিতে পারে। তখন ডায়ালিসিসের প্রয়োজন হতে পারে।
7
10
অন্যদিকে, ফুসফুস আক্রান্ত হলে শ্বাস নিতে সমস্যা হয়। ফুসফুসে জল জমতে শুরু করে এবং রোগী দ্রুত সংকটজনক অবস্থায় পৌঁছে যেতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রেই আইসিইউতে ভর্তি করতে হয়।
8
10
সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হল, এই ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ বা ভ্যাকসিন এখনও নেই। তাই দ্রুত রোগ ধরা পড়া এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
9
10
রোগীকে অক্সিজেন, তরল এবং কিডনির কাজ ঠিক রয়েছে কিনা, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
10
10
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়ি বা স্টোররুম পরিষ্কার করার সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করা উচিত। ধুলো উড়লে সরাসরি পরিষ্কার না করে আগে জীবাণুনাশক স্প্রে করা ভাল। এছাড়া বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং ইঁদুরের উপদ্রব কমানো খুব জরুরি।