আজকাল ওয়েবডেস্ক: হলিউড থেকে বলিউড, বয়সকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়ার জন্য তারকারা কত কিছুই না করেন। সম্প্রতি সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে এক নতুন ও অভিনব রূপচর্চার পদ্ধতি স্যালমন মাছের শুক্রাণু দিয়ে ফেশিয়াল। শুনতে যতই অদ্ভুত লাগুক, এই পদ্ধতি এখন তারকা তো বটেই সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিশ্বজুড়ে ভাইরাল।

এই ফেশিয়ালটি প্রথম প্রচারের আলোয় আসে ২০২৩ সালে, যখন হলিউড তারকা জেনিফার অ্যানিস্টন জানান যে তিনি এই রূপচর্চা করিয়েছেন। এর পরেই কিম কার্দাশিয়ানের মতো তারকাদের দৌলতে এর জনপ্রিয়তা হু হু করে বাড়তে থাকে।
তবে নাম ‘স্যালমন স্পার্ম ফেশিয়াল’ হলেও এর সঙ্গে মাছের শুক্রাণু সরাসরি মুখে মাখার কোনও সম্পর্ক নেই। বরং, এই পদ্ধতিতে স্যালমন মাছের শুক্রাণু কোষ থেকে ‘পলিনিউক্লিওটাইড’, অর্থাৎ ডিএনএ বা আরএনএ-র অংশ নিষ্কাশিত করে, মাইক্রোইনজেকশনের মাধ্যমে সেই উয়াপদান ত্বকের গভীরে প্রবেশ করানো হয়।

এর মূল উপাদান, ‘পলিডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিওটাইড’-এর কার্যকারিতা নিয়ে একাধিক গবেষণা হয়েছে এবং তার ফলাফলও চমকপ্রদ। ২০২২ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই ফেশিয়াল ত্বকের সূক্ষ্ম বলিরেখা কমাতে, কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে, রোদে পোড়া দাগ সারাতে, ক্ষতচিহ্ন দূর করতে এবং ত্বকের আর্দ্রতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর। 

কীভাবে কাজ করে এই ফেশিয়াল?
এই ফেশিয়ালের কার্যকারিতার মূল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে এর কাজের ধরনে। এটির সাহায্যে ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন ব্যবস্থা উদ্দীপিত হয় এবং নতুন রক্তনালী তৈরি হয়। বোটক্সের সঙ্গে এর মূল পার্থক্য হলো, বোটক্স যেখানে সাময়িকভাবে পেশি অবশ করে বলিরেখা মসৃণ করে, সেখানে এই ইঞ্জেকশন কোষীয় স্তরে ত্বকের স্বাভাবিক নিরাময় প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে তোলে।