মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকা বডিবিল্ডারদের দিকে তাকালে মনে হচ্ছিল শক্তির এক প্রদর্শনী চলছে। পেশিবহুল শরীর, কড়া আলো, দর্শকদের গর্জন ,আর এই সবকিছুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে এক ক্ষুদে প্রতিযোগী। বয়স মাত্র ছয়! কিন্তু বডিবিল্ডিং ইভেন্টে যার চোখে বিন্দুমাত্র ভয় নেই।এই দৃশ্যটাই যেন বদলে দিল সেই দিনের বডিবিল্ডিং প্রতিযোগিতার আবহ। কারণ, সেই মঞ্চে উপস্থিত ছিল রচিত পাঞ্চাল -এক শিশু, যে শুধু  প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসেনি, এসেছে বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতে।

মুম্বইয়ে আয়োজিত জুনিয়র মুম্বই শ্রী ২০২৬ প্রতিযোগিতায় ৫৫ কেজি বিভাগ ও অনূর্ধ্ব-২৩ গ্রুপে অংশ নেয় রচিত। চারপাশে তিরিশের বেশি অভিজ্ঞ বডিবিল্ডার, যাদের অনেকেই বয়সে তার তিন গুণ। তবু মঞ্চে দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্বাসী পোজ, পেশির কাট, সবকিছুতেই সে দেখাল অবিশ্বাস্য দৃঢ়তা।

 

এই অংশগ্রহণ শুধু খেলাধুলা ছিল না, ছিল এক পরিবারের আবেগের গল্প। রচিতের বাবা উমেশ মধুসূদন প্যাঁচাল নিজেও একসময় বডিবিল্ডিংয়ে রুপালি পদকজয়ী। ২০২৪ সালের মার্চে মুম্বই শ্রী প্রতিযোগিতায় নামার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তার দু’দিন আগে মোটরবাইক দুর্ঘটনায় গুরুতর চোট পান তিনি। বাঁ পায়ের হাড় ভেঙে যায়, দীর্ঘ আট মাস শয্যাশায়ী থাকতে হয়। দুটি অস্ত্রোপচার, পুনর্বাসনের লড়াই, সব মিলিয়ে তাঁর স্বপ্ন থেমে যায় মাঝপথে।

সেই স্বপ্নটাই যেন তুলে নেয় তাঁর ছেলে।

জিমে বাবার পাশে দাঁড়িয়ে অনুশীলন শুরু করে রচিত। সাইক্লিং, দৌড়, নিয়মিত ট্রেনিং -শিশুসুলভ খেলাধুলার পাশাপাশি গড়ে উঠতে থাকে এক আলাদা শৃঙ্খলা। বাবার কোচ বিশাল পরব-এর তত্ত্বাবধানে সে এখন নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।

 

 

স্কুলে সে এখনও একজন সাধারণ ছাত্র। মুম্বইয়ের সেন্ট জোসেফ হয় স্কুল ওয়াডালা-এর সিনিয়র কেজির পড়ুয়া। কিন্তু মঞ্চে উঠে সে যেন অন্য মানুষ।প্রথমবার যখন ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে গিরগাঁওয়ের এক প্রতিযোগিতায় ছেলেকে মঞ্চে দেখেন বাবা-মা, তখন আনন্দে চোখ ভিজে গিয়েছিল। বাবার ব্যথা যেন মুহূর্তেই গর্বে বদলে গিয়েছিল।

রচিতের জীবনযাত্রাও একেবারে শৃঙ্খলাবদ্ধ। বাড়ির তৈরি খাবারই তার প্রধান ভরসা। স্যালাড তার প্রিয়, জাঙ্ক ফুড সে এড়িয়ে চলে। প্রোটিনের জন্য পছন্দ চিকেন আর ডিম।

একটি শিশুর কাছে এগুলো হয়তো কঠিন নিয়ম। কিন্তু রচিতের কাছে এগুলোই তার গল্পের অংশ। একটা অসমাপ্ত স্বপ্নকে নতুন করে বাঁচিয়ে তোলার গল্প।

 

 

&t=313s