হার্ট অ্যাটাকের একমাত্র কারণ হল ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ বা এলডিএল বেড়ে যাওয়া, এমন ধারণা প্রচলিত রয়েছে। তাই কোলেস্টেরলের রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকলেই অনেকেই নিশ্চিন্ত হয়ে যান। কিন্তু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, , শুধু কোলেস্টেরল নয়, শরীরের ভিতরে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা ‘নীরব প্রদাহ’ বা ইনফ্ল্যামেশনও হার্ট অ্যাটাকের বড় কারণ হতে পারে। আর এই বিষয়টাই বেশিরভাগ মানুষ বুঝতে পারেন না।
চিকিৎসকদের মতে, শরীরে যখন দীর্ঘদিন ধরে প্রদাহ তৈরি হয়, তখন ধীরে ধীরে রক্তনালীর ভিতরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। এই ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় কোলেস্টেরল, ফ্যাট ও অন্যান্য পদার্থ জমে এক ধরনের স্তর তৈরি করে, যাকে প্ল্যাক বলা হয়। পরে সেই প্ল্যাক ফেটে গেলে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। তখন হঠাৎ করেই হার্টে রক্ত পৌঁছনো বন্ধ হয়ে যায় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি হয়।
এই ইনফ্ল্যামেশন বাড়ার পিছনে আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাপনই বড় ভূমিকা নেয়। যেমন অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাওয়া, জাঙ্ক ফুড বেশি খাওয়া, ধূমপান, অ্যালকোহল, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, দীর্ঘদিন মানসিক চাপের মধ্যে থাকা বা একেবারেই শরীরচর্চা না করা-এসব কারণে শরীরে প্রদাহ বাড়তে থাকে। অনেক সময় মানুষ বুঝতেই পারেন না যে ভিতরে ভিতরে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে যাঁদের পেটের মেদ বেশি, তাঁদের শরীরে ইনফ্ল্যামেশন হওয়ার আশঙ্কাও বেশি থাকে। এছাড়া সারাদিন বসে কাজ করা এবং খুব কম হাঁটাচলা করাও হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।
চিকিৎসকদের মতে, শুধু ওষুধ খেয়ে বা কোলেস্টেরল কমিয়ে সব সমস্যার সমাধান হবে না।
হার্ট ভাল রাখতে জীবনযাত্রার পরিবর্তন খুবই জরুরি। প্রতিদিন অন্তত আধঘণ্টা হাঁটা বা ব্যায়াম করা, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ কমানো এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া দরকার। খাবারের তালিকায় বেশি করে ফল, শাকসবজি, ডাল, বাদাম ও ফাইবারযুক্ত খাবার রাখা উচিত।
এছাড়া ধূমপান সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়াও জরুরি।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে অনেক সমস্যাই আগে থেকে ধরা পড়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, হঠাৎ অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো লক্ষণ কখনও অবহেলা করা উচিত নয়। অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের আগে শরীর এই ধরনের সংকেত দেয়। তাই সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।















