শ্রাবণ মাস হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র একটি মাস হিসেবে গণ্য করা হয়। এই পুরো মাসটি দেবাদিদেব মহাদেব শিবের আরাধনায় উৎসর্গ করেন ভক্তরা। সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে, শ্রাবণ মাসে কিছু বিশেষ পবিত্র জিনিস বাড়িতে নিয়ে এলে শিব অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন এবং ভক্তদের ওপর তাঁর অসীম কৃপা বজায় থাকে। তাহলে জেনে নেওয়া যাক শ্রাবণ মাস শুরু হওয়ার আগে কোন জিনিসগুলো বাড়িতে আনলে শুভ ফল পাবেন-

১. গঙ্গাজল: কথিত রয়েছে, শিবের জটায় গঙ্গার অবস্থান। তাই শিবপূজায় গঙ্গাজল অপরিহার্য। শ্রাবণ মাস শুরু হওয়ার আগেই বাড়িতে পবিত্র গঙ্গাজল এনে রাখা উচিত। প্রতিদিন শিবলিঙ্গে গঙ্গাজল অর্পণ করলে মহাদেব দ্রুত প্রসন্ন হন এবং জীবনের সমস্ত বাধা-বিপত্তি দূর হয়।

২. রুদ্রাক্ষ: রুদ্রাক্ষকে ভগবান শিবের অশ্রুবিন্দু থেকে উৎপন্ন বলে মনে করা হয়। বাড়িতে একটি আসল রুদ্রাক্ষ বা রুদ্রাক্ষের মালা রাখা অত্যন্ত শুভ। এটি বাড়িতে ইতিবাচক শক্তি নিয়ে আসে এবং নেতিবাচকতা দূর করে। শ্রাবণ মাসে রুদ্রাক্ষ ধারণ করাও স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল বলে মানা হয়।

৩. রুপোর ত্রিশূল বা ডমর: ত্রিশূল এবং ডমরু হল মহাদেবের প্রধান অস্ত্র ও প্রতীক। শ্রাবণ মাসের আগে রুপো বা অন্য কোনও ধাতুর ছোট ত্রিশূল বা ডমরু কিনে এনে ঠাকুরঘরে স্থাপন করতে পারেন। ত্রিশূল বাড়িতে রাখলে অন্যায় বা খারাপ শক্তির বিনাশ হয় এবং ডমরুর ধ্বনি চারপাশের পরিবেশকে শুদ্ধ রাখে।

৪. ভস্ম বা বিভূতি: মহাদেব তাঁর সারা শরীরে ভস্ম মেখে থাকেন। শিবপূজায় ভস্মের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রাবণ মাসের আগে উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দির বা যে কোনও পবিত্র স্থানের ভস্ম এনে বাড়িতে রাখতে পারেন। পূজার সময় শিবলিঙ্গে ভস্ম অর্পণ করলে মহাদেবের বিশেষ আশীর্বাদ পাওয়া যায়।

৫. বিল্বপত্র বা বেলগাছ: বেলপাতা ছাড়া শিবপূজা অসম্পূর্ণ। যদি সম্ভব হয়, তবে শ্রাবণ মাস শুরু হওয়ার আগে বাড়ির উত্তর বা পূর্ব দিকে একটি ছোট বেলগাছ লাগাতে পারেন। আর তা সম্ভব না হলে, পূজার জন্য নিয়ম মেনে পরিষ্কার বেলপাতা সংগ্রহ করে রাখুন। 

৬. রুপোর বা তামার সাপ: শিবের গলায় সর্বদা বাসুকী নাগ বা সাপ জড়ানো থাকে। শ্রাবণ মাসে রুপো বা তামার তৈরি একটি ছোট সাপ কিনে এনে শিবলিঙ্গের সাথে রাখলে কালসর্প দোষ বা রাহু-কেতুর