মলত্যাগের পর রক্তপাত হওয়া এমন একটি সমস্যা, যা অনেকেই লজ্জায় বা ভয়ে গোপন করে যান। সাধারণ কোষ্ঠকাঠিন্য বা পাইলসের (অর্শ) কারণে হচ্ছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঠিক হয়ে যাবে, এমনটাও মনে করেন অনেকে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, রেক্টাল ব্লিডিং বা মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হওয়া কখনওই স্বাভাবিক নয়। এটি শরীরের ভেতরের কোনও বড় সমস্যার পূর্বলক্ষণ হতে পারে।
রক্তের রং কী নির্দেশ করে? চিকিৎসকদের মতে, মলত্যাগের পর রক্তের রংদেখে সমস্যার গভীরতা কিছুটা আন্দাজ করা যায়। যেমন-
উজ্জ্বল লাল রক্ত: যদি রক্ত একেবারে টকটকে লাল হয়, তবে বুঝতে হবে রক্তপাত হচ্ছে পরিপাকতন্ত্রের নিচের অংশ অর্থাৎ মলদ্বার বা কোলনের শেষ অংশ থেকে।
গাঢ় লাল বা কালো রক্ত: রক্তের রং যদি কালচে বা মলের সঙ্গে মিশ্রিত আলকাতরার মতো হয়, তবে তা পরিপাকতন্ত্রের ওপরের অংশ যেমন পাকস্থলী বা ক্ষুদ্রান্ত্রের কোনো ক্ষত বা রক্তপাত নির্দেশ করে। এটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
মলদ্বার দিয়ে রক্তপাতের পেছনে সাধারণ থেকে শুরু করে অত্যন্ত জটিল কিছু কারণ থাকতে পারে। যেমন-
পাইলস বা অর্শ: মলদ্বারের চারপাশের শিরাগুলো ফুলে গেলে তাকে পাইলস বলে। কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে মলত্যাগের সময় চাপ দিলে এখান থেকে রক্তপাত হতে পারে।
অ্যানাল ফিশার: শক্ত মলের কারণে মলদ্বারের চামড়া ফেটে বা কেটে গেলে তীব্র ব্যথার সঙ্গে উজ্জ্বল লাল রক্ত দেখা যায়।
আইবিডি বা কোলন ইনফেকশন: কোলন বা অন্ত্রে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ বা ইনফেকশনের কারণে মলের সঙ্গে রক্ত ও মিউকাস বের হতে পারে।
কোলন পলিপ বা ক্যানসার: কোলনের ভেতরে ছোট মাংসপিণ্ড বা পলিপ হলে সেখান থেকে রক্তপাত হয়। চিকিৎসকদের মতে, মলদ্বারের রক্তপাত কোলন বা রেক্টাল ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান প্রাথমিক লক্ষণ। তাই একে অবহেলা করা প্রাণঘাতী হতে পারে।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন? যদি রক্তপাতের সঙ্গে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়, তবে দেরি না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
* মলত্যাগের অভ্যাসে হঠাৎ বড় পরিবর্তন (হঠাৎ কোষ্ঠকাঠিন্য বা ক্রমাগত ডায়রিয়া)।
* কোনও কারণ ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যাওয়া এবং সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভব করা।
* পেটে তীব্র ব্যথা, মোচড় দেওয়া বা পেট ফুলে থাকা।
* রক্তপাতের পরিমাণ বেশি হওয়া এবং সঙ্গে মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা লাগা।
















