বর্তমানের ব্যস্ত জীবনে অনেকেরই প্রতিদিনের ভরসা অনলাইন ফুড ডেলিভারি বা কুইক-কমার্স অ্যাপগুলো। এক ক্লিকেই ঘরের দোরগোড়ায় গরম গরম খাবার কিংবা রান্নার আনাজপাতি পৌঁছে যাচ্ছে। কিন্তু কেমন লাগবে যদি দেখেন, চড়া দাম দিয়ে অর্ডার করা পছন্দের খাবারটি পচা, বাসি কিংবা প্যাকেটজাত পণ্যটির মেয়াদের তারিখই পার হয়ে গিয়েছে!
অনেকেই এই পরিস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে খাবারটি ফেলে দেন এবং ভাগ্যকে দোষ দিয়ে চুপ করে যান। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীরবতা আসলে বড়সড় অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া। ক্রেতা হিসেবে আপনার টাকা এবং স্বাস্থ্য, দুইয়ের সুরক্ষার্থেই আইন রয়েছে আপনার পাশে। অনলাইন অর্ডারে এমন প্রতারণার শিকার হলে কীহাবে আইনি পদক্ষেপ নেবেন, জেনে নিন।
*যে কোনও আইনি লড়াইয়ের প্রথম হাতিয়ার হল প্রমাণ। তাই পচা খাবার বা মেয়াদোত্তীর্ণ প্যাকেটের স্পষ্ট ছবি এবং একটি ছোট ভিডিও তুলে রাখুন। ভিডিওতে পণ্যের গায়ে থাকা ‘Expiry Date’ বা ‘Best Before’ অংশটি পরিষ্কারভাবে দেখান। অর্ডারের বিল বা ডিজিটাল ইনভয়েসটি মোবাইল স্ক্রিনশট বা পিডিএফ আকারে সুরক্ষিত রাখুন।
*ডেলিভারি অ্যাপের দরজায় কড়া নাড়ুন। সুইগি, জোম্যাটো, ব্লিনকিট বা জেপ্টোর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর নিজস্ব কাস্টমার সাপোর্ট টিম থাকে। অ্যাপের ‘Help’ বা ‘Support’ সেকশনে গিয়ে অবিলম্বে চ্যাট বা কলের মাধ্যমে অভিযোগ জানান। আপনার তোলা ছবি বা ভিডিও সেখানে আপলোড করুন। সাধারণত নিজেদের রেটিং ও সুনাম বাঁচাতে কোম্পানিগুলো দ্রুত রিফান্ড (টাকা ফেরত) দেয় অথবা নতুন ভাল খাবার পাঠিয়ে দেয়।
*কোম্পানি কথা না শুনলে জাতীয় উপভোক্তা হেল্পলাইনের সাহায্য নিন। অনেক সময় কাস্টমার কেয়ারের কর্মীরা দায় এড়াতে চান বা রিফান্ড দিতে অস্বীকার করেন। এমনটা হলে সরাসরি দেশের উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের দ্বারস্থ হন।
*টোল-ফ্রি নম্বর ১৯১৫-তে আপনার ফোন থেকে কল করে সম্পূর্ণ বাংলায় অভিযোগ নথিভুক্ত করতে পারেন।
*জাতীয় উপভোক্তা হেল্পলাইনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (consumerhelpline.gov.in) বা সরকারি 'Umang' অ্যাপের মাধ্যমেও ঘরে বসে লিখিত অভিযোগ জানানো যায়।
*পচা বা রাসায়নিকযুক্ত খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই ধরনের গাফিলতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে 'ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া' বা FSSAI-এর। এটির 'Food Safety Connect' পোর্টালে গিয়ে সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁ বা ক্লাউড কিচেনের লাইসেন্স নম্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করুন। দোষ প্রমাণিত হলে ওই দোকানের লাইসেন্স বাতিল বা বড় অঙ্কের জরিমানা হতে পারে।
*যদি পচা খাবার খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং চিকিৎসার খরচ ও মানসিক হেনস্থার জন্য বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করতে চান, তবে কনজিউমার কোর্টে মামলা করা যায়।
এখন আর আদালতে চক্কর কাটার প্রয়োজন নেই। 'E-Daakhil' (edaakhil.nic.in) পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে নামমাত্র খরচে মামলা ফাইল করা সম্ভব। এর জন্য কোনও উকিল বা আইনজীবীরও প্রয়োজন হয় না, ক্রেতা নিজেই নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে পারেন।
খাবার ডেলিভারি পাওয়ার পর প্যাকেটটি খোলার সময় মোবাইল ফোনে একটি 'আনবক্সিং ভিডিও' করে রাখা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। এতে কোম্পানি কোনওভাবেই আপনার অভিযোগকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিতে পারবে না।
















