আপনি যদি একজন মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারী হন, তবে আজকের এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'সেবি' মিউচুয়াল ফান্ড সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মে পরিবর্তন এনেছে। সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, মিউচুয়াল ফান্ড কোম্পানিগুলো এখন বিভিন্ন প্রয়োজনে 'ইন্ট্রা-ডে' বা দিনের মধ্যেই ঋণ নিতে পারবে।
2
8
এই প্রয়োজনগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনিট-হোল্ডারদের পাওনা পরিশোধ, নতুন বিনিয়োগ, 'মার্ক-টু-মার্কেট' সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পূরণ, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় বা ফরেক্স সেটলমেন্ট এবং পুরনো ঋণ পরিশোধ।
3
8
তবে সেবি স্পষ্ট করেছে যে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত সীমা সাপেক্ষে, এই ধরনের ঋণ অবশ্যই একই দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় তা 'ওভারনাইট বরোয়িং' বা পরবর্তী দিন পর্যন্ত চলমান ঋণ হিসেবে গণ্য হবে।
4
8
১লা সেপ্টেম্বর থেকে এই সংশোধনী কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে ঋণের পরিধি আরও বাড়ান হল - আগে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সাময়িক নগদ অর্থের প্রয়োজনে ঋণ নেওয়ার অনুমতি ছিল।
5
8
বাজারের লেনদেন নিষ্পত্তির সময়ের পার্থক্যের কারণে তৈরি স্বল্পমেয়াদী নগদ অর্থের ঘাটতি সামাল দিতে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে সহায়তা করাই সেবি-র এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। এই নিয়মটি মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পের সমস্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর ফলে ইন্ট্রা-ডে ঋণ গ্রহণের যাবতীয় খরচ সংশ্লিষ্ট মিউচুয়াল ফান্ড কোম্পানিকেই বহন করতে হবে। এই খরচের কোনও অংশই কোনও স্কিম বা বিনিয়োগকারীর ওপর চাপানো যাবে না।
6
8
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী মিউচুয়াল ফান্ড খাতে মোট পরিচালিত সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জুন মাসের শেষে তা ৮২.২২ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। জুন মাসে ইকুইটি স্কিমগুলোতে বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮,৯৭৩ কোটি টাকায়, যা মে মাসে ছিল ২২,৯০৮ কোটি টাকা।
7
8
এর আগের মাসগুলোতে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল, এপ্রিলে ৩৮,৪৪০ কোটি টাকা, মার্চে ৪০,৪৫০ কোটি টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ২৫,৯৭৮ কোটি টাকা এবং জানুয়ারিতে ২৪,০২৮ কোটি টাকা।
8
8
বাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ধারায়, জুন মাসে ইকুইটি-ভিত্তিক মিউচুয়াল ফান্ড স্কিমগুলোতে বিনিয়োগ ২৬ শতাংশ বেড়ে ২৮,৯৭৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। 'অ্যাসোসিয়েশন অফ মিউচুয়াল ফান্ডস ইন ইন্ডিয়া'-র প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে মিউচুয়াল ফান্ড শিল্প থেকে মোট অর্থ বেরিয়ে যাওয়ার পরিমাণ ছিল ৫২,৯৪৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে বন্ড-ভিত্তিক স্কিমগুলো থেকে ১.০৯ লক্ষ কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে মে মাসে এই অর্থ তুলে নেওয়ার পরিমাণ ছিল ৬৪,১৩১ কোটি টাকা, যার তুলনায় জুন মাসে এই হার কিছুটা কম।