আমিষ হোক বা নিরামিষ, বাঙালির যে কোনও পদেই চাই আলু। মটন কারি থেকে মুরগির ঝোল কিংবা পাঁচ মেশালি দরকার অথবা আলুর দম। আলুর কদর সর্বত্র। যতই ডায়াবেটিসের চোখরাঙানি থাকুক, আলুর প্রতি ভালবাসায় এতটুকু খামতি থাকে না আট থেকে আশির। তবে আলু কাটার সময় বেশিরভাগ মানুষই ফেলে দেন আলুর খোসা। অনেকের ধারণা, খোসার কোনও পুষ্টিগুণ নেই। কিন্তু বাস্তবে আলুর খোসা হল একেবারে পুষ্টির ভাণ্ডার। এতে এমন অনেক ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে, যা শরীরের জন্য দারুণ উপকারী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আলুর খোসায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। এই ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, ত্বক ভাল রাখে এবং শরীরকে ভিতর থেকে এনার্জি দেয়। এছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন বি৬ যা স্নায়ুর স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং খাবার থেকে শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে।
আলুর খোসার আরেকটি বড় গুণ হল এতে থাকা ফাইবার। যা হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমায় এবং পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা রাখতে সাহায্য করে। যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদের জন্য আলুর খোসা খুব উপকারী হতে পারে। ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভাল।
এছাড়া আলুর খোসায় রয়েছে পটাশিয়াম, যা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। পটাশিয়াম শরীরের পেশি ও স্নায়ুর কাজ ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। পাশাপাশি এতে আয়রন ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজও থাকে, যা রক্তস্বল্পতা কমাতে এবং শরীরকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে।
আলুর খোসায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরকে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ ও অন্যান্য জটিল রোগের ঝুঁকি কমতে পারে। অনেকেই ঘরোয়া রূপচর্চায় আলুর খোসা ব্যবহার করেন। ত্বকে আলুর খোসা ঘষলে ত্বক কিছুটা উজ্জ্বল ও সতেজ দেখায় বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে।
তবে খোসা খাওয়ার আগে অবশ্যই কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার। আলু ভাল করে ধুয়ে পরিষ্কার করা খুব জরুরি, কারণ খোসার উপর মাটি ও কীটনাশকের অংশ থাকতে পারে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল হয় জৈব বা অর্গানিক আলু ব্যবহার করলে। খোসাসহ আলু সিদ্ধ, বেক বা হালকা ভাজা করে খেলে এর পুষ্টিগুণ ভালভাবে পাওয়া যায়।
