বছরভর যতই ব্যস্ততা থাকুক, খাওয়াদাওয়ায় ভোজনরসিক বাঙালিকে হার মানাবে কার সাধ্যি! পয়লা বৈশাখে জিভে জল আনা বাঙালি পদের স্বাদ পেতে চান? ঢুঁ মারতে পারেন শহরের আনাচেকানাচে। নববর্ষে বিশেষ মেনু নিয়ে হাজির কলকাতার তিন রেস্তোরাঁ।
ভূতের রাজা দিল বর
ধরুন, গুপি আর বাঘার মতো আপনারও হাততালি দিয়েই প্লেট ভর্তি পছন্দের খাবার খেতে ইচ্ছে হল! তাহলে আসতেই পারেন ‘ভূতের রাজা দিল বর’ রেস্তোরাঁয়। যেখানে আনাচে-কানাচে রয়েছে সত্যজিৎ রায়ের ছোঁয়া। পয়লা বৈশাখে এই রেস্তোঁয়ার বিশেষ আয়োজন ‘ভূতের রাজার বৈশাখী থালি’। যার মধ্যে পাবেন আম পান্না, ফিস ফ্রাই, কড়াইশুঁটির কচুরি, ভাজা মশলার আলুরদম, বাসন্তী পোলাও থেকে মাছের মাথা দিয়ে মুগ ডাল সহ ভেটকি পাতুরি, চিংড়ি মালাইকারি, ইলিশ ভাপা, ভূতের কালো পোড়া খাসির মাংস, পায়েস সহ আরও অনেক পদ। এই থালিতে দিব্যি দু’জন জমিয়ে খেতে পারেন। খরচ পড়বে ১৮৪৯ টাকা। এছাড়াও রয়েছে ৮৫৯ ‘গুপির থালি’, ৮৯৯ টাকায় ‘বাঘার থালি’। শুধু থালি নয়, আমিষ থেকে নিরামিষ, সবেতেই আলাদাভাবে হরেক পদ অর্ডার করে খেতে পারেন এই রেস্তোঁরায় সবকটি আউটলেটে।
বাবু কালচার
পয়লা বৈশাখে প্রিয়জনের সঙ্গে খাঁটি বাঙালি খাবারের পেটপুজো করতে চাইলে যেতে পারেন ‘বাবু কালচার’-এ। বাঙালিয়ানার অন্যতম এই রেস্তোরাঁটির আতিথেয়তা মুগ্ধ হওয়ার মতো। পুরনো কলকাতার আমেজ রয়েছে এদের সাজসজ্জাতে। পয়লা বৈশাখে নববর্ষের স্পেশাল নিরামিষ ও আমিষ থালি নিয়ে হাজির হয়েছে এই রেস্তোঁরা। ভেজ থালিতে পেয়ে যাবেন ওয়েলকাম ড্রিঙ্ক হিসেবে পাকা আম ও গন্ধরাজ লেবুর শরবত থেকে শুরু করে ভেজিটেবল চপ, ভাত, ফ্রায়েড রাইস,বেগুনি, ঝুরি আলু ভাজা, ডাল, লুচি, আলুর দম, ছানার ডালনা, দই পটল, সর্ষে বেগুন, ধোকার ডালনা, পায়েস, মিষ্টি আর পান। দাম পড়বে ৬৪৯ টাকা। আর আমিশ থালিতে থাকছে ফিস ফ্রাই, চিংড়ি মালাইকারি, মটন, ভেটকি পাতুরি, চিতল মুইঠা, পাবদা তেল ঝাল। খরচ পড়বে ১০৯৯ টাকা। এছাড়াও ১৫৯৯ টাকায় রয়েছে ইলিশ থালি। ১৩-১৪ এপ্রিল এবং ১৬ থেকে ১৯ এপ্রিল পয়লা বৈশাখের তিন বিশেষ থালির সঙ্গে থাকবে ভোজ ও মহাভোজ থালিও। নববর্ষের আবহে দুপুর ১২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত প্রিয়জনদের সঙ্গে চলে আসতে পারেন এই রেস্তোরাঁয়।
চৌধুরি অ্যান্ড কোম্পানি
নববর্ষের আবহে বাঙালির ঐতিহ্য আর স্বাদের মেলবন্ধন ঘটাতে বিশেষ মেনু নিয়ে হাজির চৌধুরি অ্যান্ড কোম্পানি। এখানে শুরুতেই পেয়ে যাবেন গরমের স্বস্তি দেওয়ার মতো ঠান্ডা পানীয়-তেঁতুলের শরবত, ডাবের শরবত, সুন্দরী কমলা আর গন্ধরাজ ঘোল। সঙ্গে হালকা গ্রিন স্যালাড। এরপর একে একে রয়েছে মুখরোচক স্টার্টার। নিরামিষে পেঁয়াজ পোস্ত বড়া, মোচার মালাই চপ, আম পিয়াজি, আম-পেঁয়াজ পোস্ত বড়া আর নন-ভেজ প্রেমীদের জন্য থাকছে ভেটকির অন্যরকম ফিশ ফ্রাই, চিংড়ির ইরানি কাটলেট, ঢাকাই চিকেন জালি কাবাব, টপসে ফ্রাই, হাঁসের ডিমের ডেভিল, মাংসের চপ, আম পোড়া মাছের চপ। সঙ্গে বেগুন ভাজা, আলু ভাজা, মাছের ডিমের বড়া, মৌরলা মাছ ভাজাও। মেনুর মূল পর্বে রয়েছে ভাজা মুগ ডাল, মৌরি-আদা বাটা দিয়ে বিউলির ডাল, চিংড়ি দিয়ে বিউলির ডাল, নারকেল দিয়ে ছোলার ডাল, আম দিয়ে মুসুর ডাল, আম দিয়ে জমিদারি ডালের মতো বাঙালির ঘরোয়া স্বাদের ছোঁয়া। সঙ্গে লুচি, কড়াইশুঁটির কচুরি, ভাত, বাসন্তী পোলাও, কাজু-কিশমিশ পোলাও ও চিংড়ি পোলাও। মেইন কোর্সে নিরামিষ থেকে আমিষ, সবেতেই জমজমাট আয়োজন। আলুর দম, মোচার ঘন্ট, আলু পোস্তর মতো নিরামিষ পদ যেমন আছে, তেমনই রয়েছে কষা মুরগি, রেলওয়ে মুরগির ঝোল, কষা মাংস, ঢাকাই কালো ভুনা মাংস। মাছ ও সামুদ্রিক খাবারের মধ্যে পাবেন দই কাতলা, ভেটকি পাতুরি, ইলিশ ভাপা, চিংড়ি মালাইকারি, ডাব চিংড়ি। ঘরোয়া স্বাদের বাড়তি ছোঁয়া দিতে রয়েছে বেগুন ভর্তা, টমেটো ভর্তা, চিংড়ি ভর্তা, কাঁচা আমের ভর্তা। আর শেষে মিষ্টি দই, আম দই, রসগোল্লা, রাবড়ি, আমের ক্ষীর, নতুন গুড়ের আইসক্রিম জমিয়ে দেবে নববর্ষের খাওয়াদাওয়া। এছাড়াও রয়েছে ‘বৈশাখের আমবিলাস’ নামক একটি বিশেষ মেনু, যেখানে গ্রীষ্মের প্রিয় ফল আম দিয়ে তৈরি হয়েছে স্টার্টার থেকে ডেসার্টের নানা পদ। পয়লা বৈশাখে বাঙালি খাবারে রসনাতৃপ্তি করতে হলে প্রিয়জনদের সঙ্গে ডেস্টিনেশন হতে পারে দেশপ্রিয় পার্কের চৌধুরি অ্যান্ড কোম্পানি।১৪ ও ১৫ এপ্রিল দুপুর ১২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত রয়েছে এই রেস্তোরাঁয় এলাহি খাওয়াদাওয়ার আয়োজন। দু’জনের খরচ পড়বে আনুমানিক ১০০০ টাকা, সঙ্গে ট্যাক্স।















