পিরিয়ডের সময় শরীর একটু আলাদাভাবে কাজ করে। হরমোনের ওঠানামার কারণে অনেকেরই পেটব্যথা, গ্যাস, ফোলাভাব, ক্লান্তি বা অস্বস্তি হয়।
ঋতুস্রাবের দিনগুলোতে খাবারের দিকে একটু বেশি নজর দেওয়া দরকার। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সব ফল শরীরের জন্য ভাল হলেও, পিরিয়ড চলাকালীন কিছু ফল খেলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
প্রথমেই আসে খুব বেশি মিষ্টি ফলের কথা। যেমন আম, আঙুর বা কলা বেশি পরিমাণে খেলে শরীরে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ে। এতে শরীর আরও ক্লান্ত লাগে, মুড খারাপ হতে পারে এবং পেট ফাঁপা বাড়তে পারে। তাই এই ফলগুলো একেবারে বাদ না দিয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভাল।
ড্রাই ফ্রুটস বা শুকনো ফলও এই সময় বেশি খাওয়া ঠিক নয়। কিশমিশ, খেজুর বা অন্যান্য ড্রাই ফ্রুটসে চিনি ও ক্যালোরি বেশি থাকে, যা হজমে সমস্যা করতে পারে। ফলে পেটে গ্যাস, ভারী ভাব বা ফোলাভাব বাড়তে পারে।
সাইট্রাস ফল যেমন লেবু, কমলা বা মাল্টাও কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে, তারা এই ফল খেলে পেটে জ্বালা বা অস্বস্তি বেশি অনুভব করতে পারেন। তাই শরীরের অবস্থা বুঝে এগুলো খাওয়া উচিত।
কাঁচা পেঁপে নিয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এতে এমন কিছু উপাদান থাকে যা জরায়ুর সংকোচন বাড়াতে পারে। ফলে অনেকের ক্ষেত্রে পিরিয়ডের ব্যথা একটু বেশি অনুভূত হতে পারে। তাই এই সময় কাঁচা পেঁপে কম খাওয়াই ভাল।
এছাড়া অনেকেই ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা ফল খেলে অস্বস্তি বোধ করেন। যদিও এর পেছনে খুব জোরালো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, তবুও ঠান্ডা খাবার খেলে কারও কারও পেটে ভারী ভাব বা অস্বস্তি হতে পারে।
অন্যদিকে, তরমুজ, শসা বা ডালিমের মতো জলসমৃদ্ধ ফল শরীরকে হাইড্রেট রাখে এবং ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে। এগুলো পিরিয়ডের সময় খাওয়া বেশ উপকারী।
সবমিলিয়ে, পিরিয়ডে ফল খাওয়া বন্ধ করার দরকার নেই। শুধু বুঝে-শুনে, পরিমিত পরিমাণে খাওয়া জরুরি। নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে ডায়েট ঠিক রাখলে এই সময়ের অস্বস্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।















