সাধারণ দাঁতের ব্যথা কমাতে গিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা এককথায় অবিশ্বাস্য এবং ভয়াবহ। মাত্র একটি দাঁতের চিকিৎসার জন্য ডেন্টাল ক্লিনিকে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে নিজের ১২টি ভাল দাঁত হারাতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে চিকিৎসা খরচ বাবদ কেটে নেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। চিকিৎসকদের এমন চরম গাফিলতি এবং প্রতারণার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটপাড়ায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর একটি দাঁতের তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। সাধারণ দাঁতের ব্যথায় মানুষ যেভাবে চিকিৎসকের কাছে যান, তিনিও তেমনই সঠিক চিকিৎসার আশায় স্থানীয় একটি নামী ডেন্টাল ক্লিনিকে যান। তিনি ভেবেছিলেন, চিকিৎসক হয়তো তাঁর দাঁত পরীক্ষা করে কিছু ওষুধ দেবেন, কিংবা খুব বেশি সমস্যা হলে সেই নির্দিষ্ট দাঁতটির রুট ক্যানাল করবেন অথবা সেটি তুলে দেবেন। কিন্তু ক্লিনিকে যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে যা ঘটল, তা তিনি কোনওদিন কল্পনাও করতে পারেননি।
ভুক্তভোগী ব্যক্তির অভিযোগ, ক্লিনিকে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকেরা তাঁর দাঁত পরীক্ষা করেন এবং চিকিৎসার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য তাঁকে আংশিক বা সম্পূর্ণ অজ্ঞান করে দেন। অপারেশন বা চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর যখন ওই ব্যক্তির জ্ঞান ফেরে, তখন তিনি মুখে এক চরম অস্বস্তি ও অদ্ভুত ফাঁকাভাব অনুভব করেন। আয়নায় মুখ দেখতেই তাঁর পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায়। তিনি দেখেন, যে একটি দাঁতের যন্ত্রণায় তিনি এসেছিলেন, সেটি তো বটেই, সঙ্গে তাঁর মুখের আরও ১১টি সম্পূর্ণ সুস্থ ও ভাল দাঁত উপড়ে ফেলা হয়েছে! অর্থাৎ এক ধাক্কায় তাঁর মুখের মোট ১২টি দাঁত ফেলে দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
একটি মাত্র দাঁতের সমস্যার জন্য কেন একসঙ্গে এতগুলো সুস্থ দাঁত তুলে ফেলা হল, সেবিষয়ে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে রোগীকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। এই আকস্মিক কাণ্ড দেখে ওই ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যান।
ভোগান্তির এখানেই শেষ ছিল না। দাঁত হারানোর ধাক্কা সামলানোর আগেই ওই পরিবারের ওপর আসে দ্বিতীয় বড় আঘাত। চিকিৎসার বিল মেটানোর নামে ওই ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে কোনও রকম আগাম অনুমতি বা স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, মাত্র একটা দাঁতের চিকিৎসার খরচ কখনই এত টাকা হতে পারে না। তাছাড়া, এত বড় অঙ্কের টাকা কেটে নেওয়ার আগে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাঁদের কোনও সঠিক বিল বা খরচের হিসাবও দেয়নি। এটি চিকিৎসা পরিষেবার নামে একটি পরিকল্পিত আর্থিক জালিয়াতি ও বড় ধরনের জালিয়াতি ছাড়া আর কিছুই নয়।
এই অমানবিক ও ভয়াবহ ঘটনার পর ভুক্তভোগী ব্যক্তি এবং তাঁর পরিবার ভেঙে পড়েছেন। একটি সাধারণ দাঁতের ব্যথার চিকিৎসা করাতে গিয়ে একজন মানুষের পুরো দাঁত এভাবে নষ্ট করে দেওয়া হবে, তা ভাবাই যায় না। পরিবারটি ইতিমধ্যেই ওই ডেন্টাল ক্লিনিক এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ হয়। নেটিজেনরা এই ঘটনাকে চিকিৎসকদের চরম গাফিলতি এবং 'মেডিক্যাল ক্রাইম' বলে আখ্যা দিয়েছেন। সকলে দাবি তুলেছেন, যাতে ওই ডেন্টাল ক্লিনিকের লাইসেন্স অবিলম্বে বাতিল করা হয় এবং দায়ী চিকিৎসকদের লাইসেন্স কেড়ে নিয়ে তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক জেলের সাজা দেওয়া হয়।















