আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় রেলে ট্রেনের লেট হওয়া একটি সাধারণ ঘটনা। অনেক যাত্রীর কাছে ব্যস্ত স্টেশনগুলিতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করা অত্যন্ত হতাশাজনক হতে পারে। কিছু ট্রেন মাত্র কয়েক মিনিট দেরি করে। কিছু ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেরি হয়। কোনও কারণে ট্রেনের দেরি হলে আপনার নষ্ট হওয়া সময়ের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নিদান রয়েছে। আজকের প্রতিবেদন আইআরসিটিসি-র একটি অল্প পরিচিত নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। যা ভ্রমণকারীদের কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। 

এই নিয়মটি শুধু রাজধানী, দুরন্ত এবং শতাব্দী এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এই প্রিমিয়াম ট্রেনগুলি কোনও কারণে দেরি করলেই নিয়মটি কার্যকর হয়। এই ট্রেনগুলির কোনওটি দু’ঘণ্টা বা তার বেশি দেরি করে, তাহলে যাত্রীরা ভ্রমণের সময় বিনামূল্যে খাবার পাবেন। সম্প্রতি একজন যাত্রী অনলাইনে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পর এই নিয়মটি সকলের সামনে এসেছে। ওই যাত্রীর রাজধানী এক্সপ্রেস প্রায় ছ’ঘণ্টা দেরিতে চলছিল। এই দীর্ঘ ক্ষণ অপেক্ষার ফলে ট্রেনে ওঠার পরে তাঁকে খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল। এই সুবিধা সম্পর্কে অবগত না থাকায় পোস্টটি দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন।

ওই ব্যক্তি তাঁদের পাওয়া খাবারের একটি ছবিও শেয়ার করেছেন। ছবিতে ডাল ও ভাতের দু’টি ছোট বাক্স দেখা যাচ্ছে। ছবির সঙ্গে তিনি একটি মজার নিয়ম ব্যাখ্যা করেছেন, যা প্রিমিয়াম ট্রেনে সংরক্ষিত টিকিটধারী যাত্রীদের জন্য বেশ উপযোগী। এক্স-এ শেয়ার করা পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, “আপনি কি জানেন যে ট্রেন দেরিতে চললে যাত্রীরা বিনামূল্যে খাবার পেতে পারেন? হ্যাঁ। আইআরসিটিসি-র ক্যাটারিং নীতি অনুসারে, যদি আপনার ট্রেন দু’ঘণ্টার বেশি দেরিতে চলে, তবে বিলম্বের সময় অনুযায়ী আপনি একটি বিনামূল্যে খাবার (সকালের/দুপুর/রাতের খাবার) পাওয়ার অধিকারী হবেন। তবে, এই নীতিটি শুধুমাত্র রাজধানী, দুরন্ত এবং শতাব্দী-র মতো প্রিমিয়াম ট্রেনের জন্য প্রযোজ্য। আমার রাজধানী এক্সপ্রেস বর্তমানে ছ’ঘণ্টা দেরিতে চলছে (কুয়াশার কারণে), এবং আমি এইমাত্র দুপুরের খাবার পেলাম।”

পোস্টটির প্রতিক্রিয়ায় একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “তারা যে মানের খাবার পরিবেশন করে, তা আমি বিনামূল্যেও চাই না।”

অন্য একজন লিখেছেন, “আমার মনে আছে, আমি টাটানগর থেকে দিল্লিতে রাজধানী এক্সপ্রেসে উঠেছিলাম এবং কুয়াশার কারণে ট্রেনটি ৮ ঘণ্টারও বেশি দেরিতে চলছিল। ক্যাটারিং কর্মীরা আমাদের সবাইকে খাবার পরিবেশন করেছিল। যদিও আমি ট্রেনের খাবার খাই না, তবে তারা দেরি হওয়ায় যাত্রীদের প্রয়োজনের খেয়াল রেখেছিল।”

একটি মন্তব্যে লেখা ছিল, “আমাদের কি এটা চেয়ে নিতে হবে? কারণ আমার দিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেস চার ঘণ্টারও বেশি দেরিতে পৌঁছলেও আমি কিছুই পাইনি।”


 
অপর একজন ব্যক্তি লিখেছেন, “সত্যি বলতে, এটা বেশ ন্যায্যই তো? যেমন বেশিরভাগ এয়ারলাইনস এটি করে, তাই আইআরসিটিসিও সেই পথেই হাঁটছে। কিন্তু আসল প্রশ্ন হল, কতজন মানুষ এই বিষয়ে জানেন।”

আপনি কি আইআরসিটিসি-র এই নিয়মটি সম্পর্কে জানতেন?