আজকাল ওয়েব ডেস্কঃ কথায় বলে, কোন কিছুই ফেলে দেওয়ার নয়। সবজি কেটে সাধারণত আমরা খোসা ফেলে দিতেই অভ্যস্থ। ব্যবহার না জানলে মানুষ কি বা করবে। নানা আমিষ রান্নায় মূল উপকরণ এই পেঁয়াজ। কিন্তু পেঁয়াজের সঙ্গে তার খোসারও এত উপকারীতা আছে জানলে অবাক হবেন আপনিও। তাই জেনে নিন পেঁয়াজের খোসার আশ্চর্য সব ব্যবহার।
গাছের সার হিসেবে বিভিন্ন সবজির খোসার নানা ব্যবহার আছে। যারা বাগান করতে পছন্দ করেন তারা সার তৈরির জন্য অনায়াসে পিঁয়াজের খোসা ব্যবহার করতে পারেন। সরাসরি গাছের গোড়ায় ছড়িয়ে দিতে পারেন পেঁয়াজের খোসা। তাছাড়াও অনেক সময়ে ছাদ-বাগানের গাছের মধ্যে পোকা ধরে যায়। এই পোকা দূর করতে দারুণ কাজ করে পিঁয়াজের খোসা।
অনিদ্রায় সমস্যায় ভুগলে ঘুমের ওষুধ না খেয়ে পিঁয়াজের খোসা ব্যবহার করুন। এতে রয়েছে এল-ট্রিপটোফ্যান নামক এক প্রকার অ্যামাইনো অ্যাসিড। এটি অনিদ্রা কাটাতে সহায়তা করে। কয়েকটি পিঁয়াজের খোসা গরম জলে ফুটিয়ে তা চায়ের মতো করে নিন। রাতে ঘুমোনোর আগে পান করুন পিঁয়াজের এই চা। ঘুমের সমস্যা দূর হবে।
বাজারচলতি প্রসাধনী দিয়ে চুলে কলপ করেন। এই সমস্ত রাসায়নিক হেয়ারকালার ব্যবহার না করে পিঁয়াজের খোসা ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে আপনার চুলের স্বাস্থ্য অটুট থাকবে। কোন মারাত্মক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। একটি শুকনো লোহার কড়াইতে পিঁয়াজের খোসাগুলি নিয়ে অল্প আঁচে সেঁকে নিন। একেবারে কালো হওয়া পর্যন্ত গরম করুন। ভাজা হয়ে এলে খোসা একেবারে গুঁড়ো করে নিন। এই গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য পরিমাণ নারকেল তেল অথবা অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে কলপ। আবার অতিরিক্ত চুল পড়লে পেঁয়াজের খোসা ভেজানো জলও কিন্তু একই ভাবে কাজ করে। রাসায়নিক মুক্ত ‘ডাই’ তৈরি করতেও অনেকে পেঁয়াজের খোসা গুঁড়ো ব্যবহার করেন।
অম্বল, গলা-বুক জ্বালার ভয়ে পেঁয়াজ খেতেই পারেন না। পুষ্টিবিদেরা বলছেন, সে ক্ষেত্রে খাবারে পেঁয়াজের বদলে ব্যবহার করা যেতে পারে পেঁয়াজের খোসা গুঁড়ো বা খোসা ভেজানো জল। সহজপাচ্য পেঁয়াজের খোসা রান্নায় পেঁয়াজের মতোই স্বাদ আনবে। পাশাপাশি অম্বল, চোঁয়া ঢেকুরের মতো সমস্যাও নিয়ন্ত্রণে রাখবে।
র্যাশ, ব্রণ বেরিয়ে যায়। রোদ লাগলে মুখ লাল হয়ে, জ্বালা করতে থাকে। এই ধরনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেঁয়াজের খোসার নির্যাস বা খোসা ভেজানো জল ব্যবহার করা যেতে পারে।
