তীব্র গরমে বাইরে বার হলেই ঘেমে নেয়ে একাকার! ঘামের সঙ্গে যখন ব্যাকটেরিয়া যুক্ত হয়, তখন আরও দুর্গন্ধ তৈরি হয়ে যায়। গরমে ঘামের দুর্গন্ধ হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। আর এই দুর্গন্ধ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়! যতই সাজ পোশাক ভাল করুন না কেন, গায়ের দুর্গন্ধ যে ব্যক্তিত্বের উপর প্রভাব ফেলে তা বলাই বাহুল্য! অনেকেই রোজকার জীবনে ঘামের দুর্গন্ধের সমস্যায় ভরসা রাখেন নামিদামি ব্র্যান্ডেড পারফিউমের উপর। কিন্ত তাতেও অনেক সময় সুরাহা মেলে না। সেক্ষেত্রে কয়েকটি ঘরোয়া টোটকাতে ভরসা রাখলেই হবে মুশকিল আসান। 

স্নানের সময় সৈন্ধব লবণ ব্যবহার: আপনার স্নানের জলে সৈন্ধব লবণ যোগ করলে তা দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া কমাতে সাহায্য করতে পারে। এটি র‍্যাশ এবং প্রদাহের মতো ছোটখাটো ত্বকের সমস্যাও কমায়। ত্বক শুষ্ক হলে স্নানের পরপরই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।

ফিটকিরি ব্যবহার: ফিটকিরি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণের জন্য পরিচিত এবং ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে এটি অত্যন্ত কার্যকর। স্নানের জলে ফিটকিরির গুঁড়ো মেশাতে পারেন অথবা বাহুমূলের মতো জায়গায় একটি ভেজা ফিটকিরি পাথর আলতো করে ঘষতে পারেন।

লেবু এবং বেকিং সোডা দিয়ে কুলকুচি: জলে লেবুর রস এবং বেকিং সোডার মিশ্রণ একটি প্রাকৃতিক ডিওডোরাইজার হিসেবে কাজ করতে পারে। স্নানের পরে এটি ব্যবহার করলে সতেজতা বজায় থাকে এবং সারাদিন ধরে দুর্গন্ধ জমা হওয়া প্রতিরোধ করে।

ইউক্যালিপটাস তেল ব্যবহার: ইউক্যালিপটাস তেলে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আপনার স্নানের জলে কয়েক ফোঁটা যোগ করলে তা আপনার ত্বককে সতেজ রাখতে এবং দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া কমাতে সাহায্য করতে পারে।

সঠিক কাপড় ও খাদ্যাভ্যাস: সুতি, লিনেন, খাদি বা রেয়নের মতো বাতাস চলাচল করতে পারে এমন কাপড় পরলে ঘাম তাড়াতাড়ি বাষ্পীভূত হয়ে যায়, ফলে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, লন্ড্রি স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান এবং ফল ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সুষম খাবার খেলে শরীরের দুর্গন্ধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।