বিয়ের দিন নিজেকে মধ্যমণি করে তুলতে চায় সকলেই। পোশাক থেকে গয়না, সবেতেই অতিথিদের নজরে সেরা হয়ে থাকতে চান কনেরা। যার জন্য বিয়ের আগে ওজন কমানোর হিড়িক নতুন কিছু নয়। তবে বর্তমানে অনেক হবু কনে দ্রুত ওজন কমাতে 'মাউঞ্জারো'র মতো ওয়েট লস ইনজেকশনের সাহায্য নিচ্ছেন। বর্তমানে এই প্রবণতা 'মাউঞ্জারো ব্রাইডস' নামে পরিচিতি পেয়েছে।  যা নিয়ে কড়া সর্তবার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

'মাউঞ্জারো ব্রাইডস' বিষয়টি কী? মাউঞ্জারো মূলত টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং স্থূলতা নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি একটি ওষুধ। তবে দ্রুত মেদ ঝরানোর ক্ষমতার কারণে অনেক হবু কনে বিয়ের কয়েক মাস আগে থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই এই ইনজেকশন ব্যবহার শুরু করছেন। লক্ষ্য একটাই, বিয়ের পোশাকে নিজেকে আরও স্লিম দেখানো।

চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, কেবল বিয়ের সাজে সুন্দর দেখানোর জন্য এই ধরনের হরমোনাল ইনজেকশন ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। এর প্রধান ঝুঁকিগুলো হল-

মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: এই ইনজেকশন ব্যবহারের ফলে বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং প্রচণ্ড পেটে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিয়ের মতো আনন্দদায়ক সময়ে এই অসুস্থতা পুরো অনুষ্ঠানটি মাটি করে দিতে পারে।

পুষ্টির অভাব: এই ওষুধগুলো খিদে কমিয়ে দেয়। ফলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না। এতে বিয়ের আগে ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা হারিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রচণ্ড ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

মানসিক চাপ: বিয়ের এমনিতেই অনেক ধকল থাকে, তার ওপর ওষুধের প্রভাবে মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা দুশ্চিন্তা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ওজন ফের বেড়ে যাওয়া: এই ইনজেকশন বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই ওজন ফের দ্রুত বাড়তে শুরু করে। অর্থাৎ এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।

অপ্রত্যাশিত শারীরিক পরিবর্তনঃ দ্রুত ওজন কমলে মুখে 'ওজেম্পিক ফেস'-এর মতো সমস্যা হতে পারে। এতে গাল ভেঙে যায় এবং চামড়া ঝুলে পড়ে, যা কনেকে বয়সের তুলনায় অনেক বেশি বয়স্ক দেখাতে পারে। এমনকি ইনজেকশন নেওয়ার ফলে অনেক সময় ডিহাইড্রেশন বা কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শর্টকাট না খুঁজে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানো উচিত। যেমন- সুষম খাবার অর্থাৎ পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার এবং জল পান করুন। বিয়ের অন্তত ৬ মাস আগে থেকে হালকা শরীরচর্চা শুরু করুন। বিয়ের আগে শরীরের বিশ্রাম সবচেয়ে বেশি জরুরি।

বিয়ের পোশাকের মাপে শরীরকে জোর করে ফিট করানোর চেয়ে স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দেওয়া বেশি জরুরি। কৃত্রিম উপায়ে ওজন কমাতে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়। হবু কনেদের উচিত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের স্বাভাবিক রূপকে গ্রহণ করা এবং সুস্থ থাকা।