অনেক সময় দেখা যায়, বাঁ হাত ওপরের দিকে তুললে বা নাড়াচাড়া করলে বুকের বাঁ পাশে এক ধরনের তীক্ষ্ণ বা চিমটি কাটার মতো ব্যথা অনুভূত হয়। যেহেতু ব্যথাটি শরীরের বাঁ দিকে, তাই স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, এটি কি হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগের লক্ষণ? আসুন এবিষয়ে জেনে নেওয়া যাক-

শরীরে যে কোনও নতুন বা অস্বাভাবিক ব্যথা হওয়াই আসলে 'স্বাভাবিক নয়'। তবে আশার কথা হল, হাত নাড়ানোর সঙ্গে যুক্ত বুকের ব্যথা সাধারণত সরাসরি হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হয় না। হৃদপিণ্ডজনিত ব্যথা যেমন এনজাইনা বা হার্ট অ্যাটাক শারীরিক পরিশ্রম করলে বাড়ে এবং হাত নাড়ালেও তাতে বিশেষ পরিবর্তন হয় না। তবে হাত তোলার সঙ্গে যদি ব্যথা বাড়ে বা কমে, তবে এর পেছনে হাড়, পেশি বা স্নায়ুর সমস্যা থাকার আশঙ্কা বেশি। এছাড়া আরও যে কারণ থাকতে পারে, তা হল- 

​১. পেশির টান বা ইনজুরিঃ বুকের খাঁচার পেশি বা পাঁজরের মাঝখানের পেশিতে টান লাগলে হাত তুললে ব্যথা হতে পারে। ভারী কিছু তোলা বা হঠাৎ ভুলভাবে হাত নাড়ানোর ফলে এমনটা হয়।

​২. কস্টোকন্ড্রাইটিসঃ এটি পাঁজরের তরুণাস্থির প্রদাহ। হাত তুললে বা গভীর শ্বাস নিলে এই ব্যথা তীব্র হতে পারে। এটি ভয়ের কিছু নয় এবং সঠিক বিশ্রামে সেরে যায়।

​৩. কাঁধের সমস্যাঃ কখনও কখনও ব্যথাটি আসলে কাঁধের সন্ধি থেকে তৈরি হয়, কিন্তু সেটি বুকের পাশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। হাত ওপরে তোলার সময় স্নায়ুতে চাপ পড়লে এমনটি অনুভূত হতে পারে।

​৪. অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিক:গ্যাস বা বুক জ্বালাপোড়া অনেক সময় বাঁ দিকে ব্যথার অনুভূতি তৈরি করে, যা হাত নাড়ানোর সময় অস্বস্তি বাড়াতে পারে।

​কখন সতর্ক হতে হবে? হাত নাড়ানোর ব্যথার সঙ্গে যদি নিচের লক্ষণগুলো থাকে, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। যেমন বুকের ভেতর প্রচণ্ড চাপ বা ভারী পাথর চেপে বসার মতো অনুভূতি। ব্যথা যদি চোয়াল, ঘাড় বা পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রচুর ঘাম হওয়া, বমি ভাব বা শ্বাসকষ্ট। বিশ্রাম নিলেও ব্যথা না কমা। 

​আপনার সমস্যাটি যদি কেবল হাত তোলার সঙ্গেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে সম্ভবত এটি পেশিজনিত সমস্যা। তবে নিজের দুশ্চিন্তা দূর করতে এবং সঠিক রোগ নির্ণয়ে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ও প্রয়োজনে ইসিজি করিয়ে নেওয়া শ্রেয়।