আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টিসিএস চলতি আর্থিক বছরে ফ্রেশার নিয়োগে বড়সড় কাটছাঁট করেছে। তারা ২৫,০০০ জন নতুন গ্র্যাজুয়েটকে চাকরির অফার দেবে। আগের আর্থিক বছরের ৪৪,০০০ জন নিয়োগের তুলনায় অনেকটাই কম। তবে সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট করেছে—পরিস্থিতি উন্নত হলে নিয়োগের দরজা এখনও খোলা রয়েছে।


টিসিএস-এর প্রধান নির্বাহী ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর কে কৃথিবাসম এক সাক্ষাৎকারে জানান, “আমরা ২৫,০০০ ফ্রেশারকে অফার দিয়েছি। আগামী মাসগুলিতে চাহিদার স্পষ্টতা বাড়লে নিয়োগও বাড়ানো হবে।” অর্থাৎ, সংস্থার ভবিষ্যৎ নিয়োগ পরিকল্পনা পুরোপুরি নির্ভর করছে বাজারের চাহিদার উপর।
গত কয়েক বছর ধরে টিসিএস ধারাবাহিকভাবে বছরে ৪০,০০০-এর বেশি ফ্রেশার নিয়োগ করে এসেছে। সেই ধারার তুলনায় এবারের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আইটি শিল্পে কিছুটা সতর্কতার বার্তা মিলছে। বিশ্বে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রযুক্তি খাতে মন্দা এই সিদ্ধান্তের পিছনে অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।


তবে ফ্রেশারদের গুরুত্ব কমেনি—একথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন কৃথিবাসম। অনেকের ধারণা, সংস্থা হয়তো অভিজ্ঞ কর্মী বা ‘ল্যাটারাল হায়ারিং’-এর দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু তিনি এই ধারণা খারিজ করে বলেন, টিসিএস-এর ডেলিভারি মডেলে ফ্রেশারদের ভূমিকা এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও একজন নতুন কর্মীকে প্রজেক্টে কাজ করার উপযোগী হতে প্রায় ৯ মাস প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হয়, তবুও দীর্ঘমেয়াদে তারাই সংস্থার মূল শক্তি।


অন্যদিকে, সংস্থার কর্মী পুনর্গঠন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রায় ১২,০০০ কর্মী, বিশেষত সিনিয়র স্তরের কর্মীদের বিদায় নেওয়ার খবর সামনে আসে। এই প্রসঙ্গে কৃথিবাসম বলেন, কর্মীদের পারফরম্যান্সই সংস্থায় টিকে থাকার মূল মাপকাঠি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে এই ছাঁটাই হয়নি বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন। বরং কাজের ধরণ বদলে যাওয়ায় সিনিয়র স্তরের প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কমেছে।


ব্যবসার দিক থেকে টিসিএস পরিস্থিতিকে “স্থিতিশীল” বলে বর্ণনা করেছে। যদিও এই স্থিতিশীলতার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তার ছায়া। তবুও সংস্থার মতে, নতুন প্রজেক্ট এবং ক্লায়েন্ট চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে। খরচ কমানোর প্রকল্পের পাশাপাশি বড়সড় ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ডিলও আসছে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে।

 


২০২৬ অর্থবর্ষে টিসিএস মোট ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি অর্জন করেছে, যা সংস্থার শক্তিশালী বাজার অবস্থানকে তুলে ধরে। পাশাপাশি, নতুন চুক্তি থেকে আয়ে রূপান্তরের হারও বেড়েছে। গ্রাহকেরা আগের তুলনায় বেশি কাজ টিসিএসকে দিচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে। সব মিলিয়ে, টিসিএস সতর্ক কিন্তু আশাবাদী। ফ্রেশার নিয়োগ কমলেও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা এখনও উজ্জ্বল—শুধু দরকার বাজারে চাহিদার পরিষ্কার সংকেত।