আজকাল ওয়েবডেস্ক:  দেশের বৃহত্তম বিমানসংস্থা ইন্ডিগো প্রচুর পাইলট নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংস্থাটি ১,০০০-রও বেশি পাইলট নিয়োগ করবে বলে জানা গেছে। ভারতীয় বিমান চলাচল খাতে এটি অন্যতম বৃহত্তম নিয়োগ অভিযান হতে চলেছে।


এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গত ডিসেম্বরের বড় ধরনের অপারেশনাল সঙ্কট। মাত্র সাত দিনের মধ্যে ৫,০০০-র বেশি উড়ান বাতিল করতে হয়েছিল ক্রু-সংকটের কারণে। নতুন বিশ্রামবিধি কার্যকর হওয়ার পর পাইলটের ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করে, যার ফলে বিমান চলাচলে বিপর্যয় দেখা দেয়।


একাধিক পদে নিয়োগ
ইন্ডিগোর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ট্রেনি ফার্স্ট অফিসার, সিনিয়র ফার্স্ট অফিসার এবং ক্যাপ্টেন পদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংস্থাটি একদিকে যেমন নিজেদেরকে সম্প্রসারণ করছে, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশিকা মেনে চলতেও এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।


প্রতি মাসে চারটি নতুন বিমান
ইন্ডিগো প্রতি মাসে তাদের বহরে চারটি নতুন বিমান যুক্ত করবে। ফলে এই নতুন উড়ান পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত পাইলট প্রয়োজন। বর্তমানে সংস্থা প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ জন ফার্স্ট অফিসারকে ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত করছে। একজন ট্রেনি অফিসার থেকে ক্যাপ্টেন হতে সাধারণত ছয় মাস সময় লাগে এবং কমপক্ষে ১,৫০০ ঘণ্টা উড়ান অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। সংস্থা এই মানদণ্ড আরও কঠোর করছে বলে জানা গেছে।


ডিজিসিএর নিয়ম ও চাপ
ভারতে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ-র নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি বিমানের জন্য অন্তত তিন সেট পাইলট থাকা বাধ্যতামূলক। তবে ইন্ডিগোর বিমানগুলো বেশি ব্যবহৃত হয়, ফলে প্রয়োজন হয় স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পাইলট থাকবে।


তদন্তে দেখা যায়, সংস্থার প্রয়োজন ছিল ২,৪২২ জন ক্যাপ্টেন, কিন্তু সেই সময়ে ছিলেন মাত্র ২,৩৫৭ জন। এই ঘাটতির জেরে উড়ান পরিচালনায় চাপ বেড়ে যায়। 


ডিসেম্বরের সঙ্কটের প্রেক্ষাপট
ডিসেম্বরে নতুন পাইলট বিশ্রামবিধি চালু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে অবতরণের সংখ্যা সীমিত করা হয় এবং সাপ্তাহিক বিশ্রামের সময় বাড়ানো হয়। তদন্তে উঠে আসে, ইন্ডিগো নতুন নিয়ম মানতে পর্যাপ্ত নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেনি। ফলে পাইলটদের ওপর কাজের চাপ বৃদ্ধি পায় এবং বিপুল সংখ্যক উড়ান বাতিল করতে হয়।


ভবিষ্যতের প্রস্তুতি
ডিসেম্বরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইন্ডিগো এবার বড়সড় নিয়োগে নামছে। নতুন বিমান সংযোজন, কড়া নিয়মাবলি মেনে চলা এবং পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পাইলট নিয়োগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সংস্থাটি।

 


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ সফল হলে ভবিষ্যতে উড়ান বাতিলের ঝুঁকি কমবে এবং যাত্রী পরিষেবায় স্থিতিশীলতা আসবে। ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল বিমান বাজারে ইন্ডিগোর এই সিদ্ধান্ত শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।