আজকাল ওয়েব ডেস্কঃ প্রায় প্রত্যেকে বাড়িতেই কোষ্ঠকাঠিন্য, হজমের সমস্যায় সাধারণ ঘরোয়া টোটকা বা ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এই ইসবগুল। কিন্তু শুধু পেটের সমস্যা নয়, ডায়বেটিস থেকে হার্টের রোগ পর্যন্ত সবেতেই মোক্ষম দাওয়াই এই পাউডার। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে এই প্রাকৃতিক ওষুধ।
ইসবগুলে রয়েছে সল্যুবল ফাইবার, জলে ভিজে থকথকে জেলির মতো পদার্থ তৈরি হলে এর ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।এইভাবে খেলে শরীরের কোলেস্টেরল ও অন্ত্র থেকে বের হওয়া অ্যাসিডকে বশে এনে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
গরমজল পরিপাকতন্ত্রে ইসবগুলকে বেশি পরিমাণে শোষণ করতে সাহায্য করে, হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ও শরীরে এলডিএল এর মাত্রাকে কমাতে সাহায্য করে।
কোলেস্টেরলের মাত্রা কমলে স্বাভাবিকভাবেই আপনার হার্ট থাকে সুস্থ।এতে ৭০ শতাংশ দ্রবণীয় ফাইবার এবং ৩০ শতাংশ অদ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে।এটি খেলে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হয় এবং দীর্ঘক্ষণ খিদে পায় না।ওজন কমাতে দারুণ উপকারী।
শরীরে বেশি কোলেস্টেরল জমা হলে আর্টারিতে ব্লকেজ চলে আসে।যা হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়।রোজ গরম জলে এক চামচ ইসবগুল খেলে ব্লাড সার্কুলেশন ঠিকভাবে হয় ও আর্টারি পরিষ্কার থাকে।
ডায়বেটিসেও ভাল কাজ দেয় এই গুঁড়ো। কোলেস্টেরলকে বশে রাখার পাশাপাশি রক্তে ব্লাড সুগারকেও নিয়ন্ত্রণে রাখে।এতে উপস্থিত সল্যুবল ফাইবার রক্তে ব্লাড সুগারকে শোষণ করতে বাধা দেয়, ফলে সুগারের মাত্রা থাকে স্বাভাবিক।
কোলেস্টেরল বশে রাখতে পারায় ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে।ইসবগুল পেট ভরে রাখার অনুভূতি তৈরি করে এবং অস্বাস্থ্যকর খাওয়া, ভাজাভুজি ও অন্যান্যর প্রতি আকর্ষণ নষ্ট করে। হজমের সমস্যায় ভীষন কার্যকরী এই ঘরোয়া প্রাকৃতিক ওষুধ। উচ্চমাত্রায় ফাইবার থাকায় পেট পরিষ্কার করতে ও কোষ্ঠকাঠিন্য চিরতরে দূরে রাখে।
ইসবগুলের ভুসি প্রোবায়োটিক হিসাবে কাজ করে।অন্ত্রের মধ্যে থাকা ভাল ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে এই পথ্য। অন্ত্র ভাল থাকলে শারীরবৃত্তীয় অনেক কাজই সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হয়। পরিপাকতন্ত্রের উপরেও বিশেষ চাপ পড়ে না।হজম ভাল হয়।
উষ্ণ গরম জলে দু'চামচ ইসবগুল দিয়ে মিশিয়ে নিন।জেলির মতো হয়ে গেলেই খেয়ে নিন। নিজের রোজের রুটিনে নিয়ম করে খান এই ওষুধটি।
