আজকাল ওয়েব ডেস্ক: আজ মহাসপ্তমী। ষষ্ঠীতে বোধনের পর থেকেই সপ্তমীর পুজোর আয়োজন শুরু হয়ে যায়। সপ্তমীর নানান রীতি-নিয়মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নবপত্রিকা স্নান। যাকে প্রচলিত ভাষায় বলা হয় কলাবউ স্নান। এই কলাবউ আবার গণেশের বউ বলেও প্রচলিত। কিন্তু সত্যি কি গণেশের স্ত্রী কলাবউ? নাকি রয়েছে অন্য কোনও পরিচয়? আর সপ্তমীর শুরুতেই কেনই বা নবপত্রিকা স্নান করানো হয়? আসুন জেনে নেওয়া যাক। 

ষষ্ঠীর দিন বেলগাছের নীচে দুর্গার বোধন যেখানে হয়, সেখানেই রাখা থাকে নবপত্রিকা। হলুদ সুতো ও শ্বেত অপরাজিতা দিয়ে মোট নয়টি গাছের কাণ্ডকে এক করে বাধা হয়। আসলে নবপত্রিকা হল মা দুর্গারই আরেক রূপ। মা দুর্গা প্রকৃতিও প্রতীক। তাই প্রকৃতি পুজো করতে নবপত্রিকা রূপে মা দুর্গাকে পুজো করা হয়। 

কলাবউ গণেশের পাশে, দুর্গার ডানদিকে রাখা হয়, তাই অনেকেই ভাবেন গণেশের স্ত্রী কলাবউকেও দুর্গাপুজোর সময় প্রাধান্য দেওয়া হয়। কিন্তু এমনটা মোটেও না। পুরাণ মতে, নয়টি গাছকে দেবীর পাশে রেখে পুজোর করার জন্যই এই নিয়ম। নবপত্রিকার আক্ষরিক অর্থ নব অর্থাৎ ৯ পত্রিকা অর্থাৎ ন’টি পাতা। কিন্তু এখানে ন’টি পাতা নয়, ন’টি গাছের পুজো করা হয়। যার মধ্যে থাকে কলা, বেল, অশোক, কচু, হলুদ, ধান, জয়ন্তী, মান ও দাড়িম।

সপ্তমীর দিন সকালে নবপত্রিকাকে কাছের কোনও নদী বা জলাশয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পুরোহিত নিজেই কাঁধে করে নবপত্রিকা নিয়ে যান। তাঁর পিছনে ঢাকীরা ঢাক বাজাতে বাজাতে এবং মহিলারা শঙ্খ ও উলুধ্বনি দেন। শাস্ত্রবিধি মেনে স্নান করানোর পর নবপত্রিকাকে একটি নতুন লাল পাড় সাদা শাড়ি পরানো হয়। তারপর মণ্ডপে ফিরে এসে দেবীর ডান দিকে একটি কাঠের আসনে স্থাপন করা হয় নবপত্রিকাকে। মণ্ডপে নবপত্রিকা প্রবেশের মাধ্যমেই মূল পুজাপর্ব শুরু হয়। এরপর দর্পণে দেবীকে মহাস্নান করানো হয়। বাকি দিনগুলিতে নবপত্রিকা অন্য দেবদেবীদের সঙ্গেই পূজিত হয়।