নবজাতক বা ছোট শিশুর চোখে কাজল লাগানো এদেশের সমাজে বহু পুরনো একটি রীতি। অনেক পরিবারের বিশ্বাস, কাজল দিলে শিশুর চোখ সুন্দর দেখায়, দৃষ্টি ভাল হয় এবং কুনজর থেকে বাঁচা যায়। কিন্তু চিকিৎসকেরা মতে, এই ধারণার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং শিশুর চোখে কাজল লাগানো তার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে পাওয়া বেশিরভাগ কাজলে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকে। এর মধ্যে সীসা বা লেড অন্যতম। এই সীসা শিশুর শরীরে প্রবেশ করলে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। দীর্ঘদিন এর প্রভাব থাকলে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ, শেখার ক্ষমতা এবং আচরণগত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের স্পষ্ট মত, নবজাতকের শরীর এই ধরনের বিষাক্ত উপাদান সহ্য করতে পারে না।

চোখে সংক্রমণের আশঙ্কাও খুব বেশি। শিশুর চোখ অত্যন্ত সংবেদনশীল। কাজল লাগানোর সময় হাত বা কাজলের কাঠিতে থাকা জীবাণু সহজেই চোখে ঢুকে যেতে পারে। ফলে চোখ লাল হয়ে যাওয়া, জ্বালা, চুলকানি, চোখ থেকে জল পড়া কিংবা গুরুতর সংক্রমণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে চোখের ভেতরের নরম অংশে ক্ষত তৈরি হওয়ার ঘটনাও দেখা যায়।

অনেক অভিভাবক মনে করেন, ঘরে তৈরি কাজল নিরাপদ। তবে চিকিৎসকেরা এই ধারণাও ভুল বলে জানাচ্ছেন। ঘরে বানানো কাজলেও যদি ঠিকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখা হয়, তাহলে সেখান থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই বাজারের কাজল হোক বা ঘরে তৈরি দুটিই শিশুর চোখে ব্যবহার না করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

চিকিৎসকদের আরও দাবি, কাজল দিলে চোখ বড় হয় বা দৃষ্টি শক্তি বাড়ে, এই কথাগুলি সম্পূর্ণ ভুল। কাজলের কোনও চিকিৎসাগত উপকারিতা নেই। বরং এতে চোখের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। শিশুর চোখ ভাল রাখতে হলে আলাদা করে কোনও প্রসাধনীর প্রয়োজন নেই।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, শিশুর চোখের যত্ন নিতে হলে নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, ধুলো-ময়লা থেকে দূরে রাখা এবং চোখে কোনও সমস্যা দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সামাজিক বিশ্বাস বা রীতির চেয়ে শিশুর স্বাস্থ্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই সন্তানের চোখ ভাল রাখতে বুঝেশুনে কাজল ব্যবহার করা উচিত।