আজকাল ওয়েবডেস্কঃ আধুনিক যুগে অনেকেই নিজেকে নির্ভীক বলে দাবি করেন। বিজ্ঞান কিন্তু ভিন্ন কথা বলে। মানুষ ভয়ের দীর্ঘ তালিকা নিয়ে জন্মায় না ঠিকই। তবে জন্ম থেকেই মনের গভীরে ঘাপটি মেরে থাকে দুটি ভয়। মনোবিজ্ঞানী এবং স্নায়ুবিজ্ঞানীরা একমত যে আমরা সেই দুটি ভয় নিয়েই পৃথিবীতে আসি। 

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মানুষের জন্মগত দুটি ভয় হল-পড়ে যাওয়ার ভয় এবং জোরালো শব্দের ভয়। এই ভয়গুলো আমাদের মস্তিষ্কে মৌলিক বেঁচে থাকার প্রক্রিয়া হিসেবে গেঁথে আছে। এক্ষেত্রে ছয় মাস বয়সি শিশুদের নিয়ে পরিচিত "ভিজ্যুয়াল ক্লিফ" পরীক্ষা করা হয়। যেখানে শিশুদের একটি স্বচ্ছ পৃষ্ঠের উপর রাখা হয়েছিল। শুনতে অবাক লাগলেও পরীক্ষাটিতে বেশিরভাগ শিশু স্বচ্ছ গ্লাসের ওপর দিয়ে চলতে ভয় পায়। যদিও তার নিচে প্রকৃত গর্ত নেই। তবুও উচ্চতা দেখে পড়ে যাওয়ার ভয় পায় তারা। শিশুদের প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দেয় যে এটি মানুষের সহজাত একটি ভয়। 

জোরালো শব্দের ভয়ও জন্ম থেকেই মানুষের মনে থাকে। এক্ষেত্রে নবজাতকদের মধ্যে 'অ্যাকোস্টিক স্টার্ল রিফ্লেক্স' দেখা যায়। অর্থাৎ ধাতুর ঝনঝন শব্দ বা বেলুন ফেটে যাওয়ার মতো তীক্ষ্ণ শব্দের প্রতিক্রিয়ায় হঠাৎ কান্না বা কান্নার মতো অনুভূতি প্রকাশ করে শিশুরা। স্নায়ুবিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রতিফলন স্বয়ংক্রিয় এবং মস্তিষ্কের আদিম বেঁচে থাকার প্রক্রিয়ার অংশ, যা শরীরকে সম্ভাব্য হুমকির প্রতি দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সাহায্য করে। এই দুটি ভয় সকলের মধ্যেই একইরকম থাকে এবং সমস্ত সংস্কৃতি কিংবা সমাজে লক্ষ্য করা যায়। 

মাকড়সার ভয়, অন্ধকার বা জনসমক্ষে কথা বলার মতো অন্যান্য সমস্ত ভয় অভিজ্ঞতা, পারিবারিক প্রভাব এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের মাধ্যমে মানুষ মধ্যে আসে। বেশিরভাগ ভয় পরবর্তী জীবনে অন্যদের পর্যবেক্ষণ বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিকশিত হয়। 

বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বিখ্যাত "লিটল অ্যালবার্ট" পরীক্ষা দেখিয়েছিল যে ভয়কে কতটা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সেই গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, যে শিশু প্রথমে সাদা ইঁদুরকে ভয় পেত না। পরবর্তীকালে বারবার জোরে শব্দের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরে ইদুঁর ভয় পেতে শুরু করে। সবশেষে বলা যায় যে মানুষ কেবল দুটি মৌলিক ভয় নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, যেখানে বাকি ভয়গুলো চারপাশের পরিবেশের মাধ্যমে রপ্ত করে।