ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা নির্দিষ্ট সময় ধরে না খেয়ে থাকার অভ্যাস এখন বেশ জনপ্রিয়। অনেকেই ওজন কমানোর জন্য এই উপায় মেনে চলেন। কিন্তু জানেন শুধু শরীরের মেদ ঝরানো নয়, এই উপোস নাকি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে? সম্প্রতি গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই চমকে দেওয়া তথ্য।


বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকলে শরীরে বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটে। আসলে আমরা যখন নিয়মিত খাই, তখন শরীর প্রধানত গ্লুকোজ থেকে শক্তি নেয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় না খেলে শরীর জমে থাকা চর্বি ভেঙে শক্তি তৈরি করতে শুরু করে। তখন তৈরি হয় ‘কিটোন’ নামের এক ধরনের উপাদান। এই কিটোন মস্তিষ্কের জন্য ভাল জ্বালানি হিসেবে কাজ করতে পারে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এতে মস্তিষ্ক আরও সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে পারে।

 

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করলে শরীরে ‘অটোফ্যাজি’ নামে একটি প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। সহজভাবে বললে, এটি শরীরের কোষ পরিষ্কার করার প্রাকৃতিক পদ্ধতি। পুরনো ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষ ভেঙে নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। এতে মস্তিষ্কের কোষও উপকৃত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি বয়সজনিত স্মৃতিভ্রংশ বা স্নায়ুর ক্ষয়জনিত সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করা হয়।


এছাড়া ফাস্টিং রক্তে শর্করার মাত্রা ও ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তশর্করা মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। তাই শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকলে মস্তিষ্কও সুস্থ থাকতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত সঠিকভাবে উপোস রাখলে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং শেখার ক্ষমতা কিছু ক্ষেত্রে বাড়তে পারে।


তবে সবকিছুরই ভাল-মন্দ দুই দিক আছে। হঠাৎ করে দীর্ঘ সময় না খেলে মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা, খিটখিটে মেজাজ বা মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, রক্তচাপের সমস্যা আছে বা গর্ভবতী মহিলা—তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ফাস্টিং করা ঠিক নয়।


নিউরোলজিস্টরা বলেন, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং সকলের জন্য এক রকম কাজ করে না। কারও ক্ষেত্রে উপকার মিলতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে তেমন ফল নাও মিলতে পারে। তাই ধীরে শুরু করা, পর্যাপ্ত জল খাওয়া এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


সঠিক নিয়ম মেনে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করলে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে এটি কোনও জাদুকরী সমাধান নয়। নিজের শরীরের অবস্থা বুঝে এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।