ব্ল্যাক কফি খেতে গল্পে মেতে আর কাপের দিকে মন থাকে না? ঠান্ডা হয়ে যাওয়া অবশিষ্ট কফিটা ফেলে না দিয়ে কাজে লাগাতে পারেন। এটিই হতে পারে চুলের যত্নের একটি কার্যকর ও সহজ উপায়। কফিতে থাকা ক্যাফেইন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে, চুলের ফলিকলকে সক্রিয় করে এবং নিয়মিত ব্যবহারে চুল পড়া কমাতেও সহায়ক হতে পারে।
কফি দিয়ে চুলের যত্নের কার্যকর পদ্ধতি
কফি রিন্স
শ্যাম্পু করার পর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কফি মাথার ত্বকে ঢেলে দিন। ১০–১৫ মিনিট রেখে পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং চুলে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা আসে।
কফি ও অ্যালোভেরা স্ক্যাল্প টনিক
তিন থেকে চার চামচ অবশিষ্ট কফির সঙ্গে দু’চামচ তাজা অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি মাথার ত্বকে লাগিয়ে ২০–৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। অ্যালোভেরা মাথার ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে এবং কফি চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে।
কফি গ্রাউন্ডস স্ক্রাব
কফির গুঁড়ো দু’চামচ নারকেল তেল অথবা অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে মাথার ত্বকে তিন-চার মিনিট হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। এই স্ক্রাব মাথার ত্বকের মৃত কোষ দূর করে এবং চুলের ফলিকল পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে।
কফি ও মধুর ক্লিনজার
দু’টেবিল চামচ কফির গুঁড়ো, এক টেবিল চামচ মধু ও সামান্য গরম জল মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এটি মাথার ত্বকে লাগিয়ে ১০–১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এই মিশ্রণ চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগায় এবং শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে।
পেঁয়াজের রস ও কফির মিশ্রণ
চার টেবিলচামচ কফি, ২ টেবিলচামচ পেঁয়াজের রস এবং ১ চা-চামচ ক্যাস্টর অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগান। ২০–২৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। পেঁয়াজের রস চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক এবং কফি রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে।
কফি–দই–নারকেল দুধের হেয়ার মাস্ক
৪ টেবিল চামচ কফি, আধা কাপ দই, দু’তিন টেবিল চামচ নারকেল দুধ ও এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগান। ২৫–৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্ক চুলে গভীর পুষ্টি জোগায় এবং চুলকে আরও মজবুত ও স্বাস্থ্যবান করে।
চিনি বা দুধ ছাড়া শুধুমাত্র কালো কফি ব্যবহার করুন।
সপ্তাহে এক থেকে দু’বার এগুলি করলে ভাল ফল পাওয়া যেতে পারে।
সংবেদনশীল ত্বক হলে ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করে নিন।
