প্রেমে ব্যর্থতা, বিচ্ছেদ কিংবা প্রিয় মানুষের থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার কষ্ট শুধু মানসিক যন্ত্রণা দেয়, তা নয়। বিজ্ঞানের মতে, হৃদয় ভাঙার যন্ত্রণা বাস্তবে শরীরেও জানান দেয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই যন্ত্রণা পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক এবং এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে রয়েছে আমাদের মস্তিষ্ক ও হরমোনের কাজকর্ম।

হৃদয় ভাঙা শুধু আবেগের বিষয় নয়, এটি একটি বাস্তব শারীরিক অভিজ্ঞতাও বটে। তাই এই কষ্টকে গুরুত্ব দিয়েই দেখা উচিত। চিকিৎসকদের মতে, মানসিক আঘাতের সময় মস্তিষ্কের যে অংশ সক্রিয় হয়, সেই অংশই শারীরিক ব্যথা অনুভবের সময় কাজ করে। ফলে প্রেমে বিচ্ছেদের পর অনেকের বুক ব্যথা, বুক ধড়ফড়, শ্বাস নিতে অসুবিধে বা শরীর ভার লাগার মতো উপসর্গ দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলো কল্পনা নয়, বরং মস্তিষ্কের প্রকৃত প্রতিক্রিয়া।

একই জায়গা থেকে আসে মানসিক ও শারীরিক ব্যথা। নিউরোসায়েন্স অনুযায়ী, মস্তিষ্কের অ্যান্টেরিয়র সিঙ্গুলেট কর্টেক্স নামের একটি অংশ মানসিক কষ্ট ও শারীরিক যন্ত্রণা-দুটোকেই একইভাবে ব্যাখ্যা করে। তাই প্রিয় মানুষের থেকে দূরে সরে যাওয়ার কষ্ট শরীরেও ব্যথার মতো অনুভূত হয়। 

সম্পর্কে থাকার সময় শরীরে ডোপামিন, অক্সিটোসিন ও সেরোটোনিনের মতো ‘ভাল লাগার হরমোন’ বেশি তৈরি হয়। এগুলো সুখ ও নিরাপত্তার অনুভূতি দেয়। কিন্তু সম্পর্ক ভেঙে গেলে এই হরমোনগুলোর মাত্রা কমে যায় এবং বেড়ে যায় স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল। ফল হিসেবে দেখা দেয় উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা, ক্ষুধামন্দা, ক্লান্তি এবং মনোযোগের অভাব।

হার্টের ওপরেও পড়তে পারে প্রভাব। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন একটি সমস্যার কথা বলা হয়, যার নাম ‘ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোম’। তীব্র মানসিক ধাক্কায় হঠাৎ করে হার্টের পেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। উপসর্গ অনেকটা হার্ট অ্যাটাকের মতো হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি সাময়িক। তবে চিকিৎসকদের মতে, বিষয়টি একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়।

শরীরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। হৃদয় ভাঙার পর অনেকেরই ঠিকমতো ঘুম হয় না, খাওয়ার রুচি কমে যায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন এমন চললে শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

চিকিৎসকদের মতে,  এই সময় নিজের কষ্টকে চেপে না রেখে কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলা জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম, হালকা শরীরচর্চা ও প্রয়োজনে কাউন্সেলরের সাহায্য নিলে ধীরে ধীরে শরীর ও মন দুটোই সুস্থ হয়ে ওঠে।