সাধারণত আমরা বাড়ির সব জিনিসই স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে নিরাপদ বলে মনে করি। কিন্তু জানলে অবাক হবেন, রান্নাঘর থেকে বেডরুম পর্যন্ত নানা জিনিসে লুকিয়ে থাকে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও টক্সিন। যা দীর্ঘদিন ব্যবহারে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ছোট ছোট জিনিস মনে হলেও এগুলো শরীরে ধীরে ধীরে সমস্যা তৈরি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনভাবে কিছু পরিবর্তন করলে সহজেই এই টক্সিন কমানো সম্ভব।
রান্নাঘরে সতর্ক থাকুনঃ রান্নার স্টিক প্যান বা পুরনো স্ক্র্যাচযুক্ত কুকওয়্যার গরম হলে ক্ষতিকর রাসায়নিক নির্গত হতে পারে। প্লাস্টিকের বোর্ড ও পাত্রও খাবারের সঙ্গে রাসায়নিক মিশিয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্ষেত্রে স্টেইনলেস স্টিল, কাস্ট আয়রন বা সেরামিক কুকওয়্যার ব্যবহার করা উচিত। প্লাস্টিকের বদলে বাঁশ বা কাঠের চপিং বোর্ড ব্যবহার করতে পারেন। ডিশওয়াশের জন্য রাসায়নিকমুক্ত বা প্রাকৃতিক উপাদানের ক্লিনার বেছে নিন, যেমন ভিনেগার ও বেকিং সোডা।
বাথরুমে সাবধানঃ গন্ধযুক্ত শ্যাম্পু, সাবান, টুথপেস্ট বা হেয়ার ডাই-এর মধ্যে রাসায়নিক থাকতে পারে যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। এই সব জিনিসের পরিবর্তে গন্ধহীন বা অর্গানিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করা নিরাপদ।
বেডরুমের স্বাস্থ্যকর উপায়ঃ সিন্থেটিক চাদর বা পলিয়েস্টার বেডিং রাসায়নিক ধরে রাখতে পারে। এই ধরনের সমস্যা এড়াতে কটন বা লিনেনের মতো প্রাকৃতিক ফাইবারের বেডশিট ব্যবহার করা ভাল। আর এয়ার ফ্রেশনার বা কৃত্রিম সুগন্ধের বদলে ঘর ভেন্টিলেশন বাড়ান বা ঘরে প্ল্যান্ট রাখুন।
মেনে চলুন
• ঘরকে নিয়মিত বাতাস চলাচল করে এমন ব্যবস্থা রাখুন, জানালা খুলে রাখুন।
• প্রাকৃতিক এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন।
• রং ও ফার্নিচার বাছাইয়ে লো-ভিওসি পণ্য বেছে নিন।
• ঘরোয়া ক্লিনার ব্যবহার করুন যেমন ভিনিগার, লেবুর রস এবং জল মিশিয়ে তৈরি সারফেস ক্লিনার।
গবেষকরা মনে করেন, ঘরের ভিতরের বাতাস বাইরে থেকে অনেক বেশি দূষিত হতে পারে। তাই ঘরের টক্সিন কমাতে সচেতন ব্যবহার ও নিরাপদ বিকল্প বেছে নেওয়া খুব জরুরি। ছোট পরিবর্তনগুলোও স্বাস্থ্যের ওপর বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং বাড়ি হয়ে ওঠে আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক।
