পরমা দাশগুপ্ত

ছুটি! 

ব্যস্ত ছুটের জীবন থেকে চুরি করে নেওয়া একটু আলসেমি, একটু অন্যরকম স্বাদ, আর একমুঠো অক্সিজেন। 
ছুটি মানেই পায়ের তলায় সর্ষে নিয়ে টুক করে বেরিয়ে পড়তে অভ্যস্ত যাঁরা, তাঁদের কথা আলাদা। কিন্তু এমন তো অনেকেই আছেন, যাঁদের মনটা পালাই পালাই করলেও লাগাতার পরিশ্রম পেরিয়ে ছুটির সময়টা এলেই ঘিরে ধরে একরাশ ক্লান্তি। মনটা বেরিয়ে পড়তে চাইলেও শরীর দেয় না আর। তাই বলে কি ছুটির মজা থেকে বাদ পড়বেন?

মোটেই না! উল্টে বরং ছুটির ঠিকানাকেই নিয়ে আসুন নিজের বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে। চেনা আরামেই মিশে যাক ছুটি কাটানোর আহ্লাদ। যাকে বলে বাড়িতেই ভেকেশন! ভাবছেন কীভাবে? চেনা জানা পরিসরেই একটু ওলোটপালট হোক। সঙ্গে থাকুক আলসেমি আর ছুটির আমেজে ডুব দেওয়ার যাবতীয় উপকরণ। 

ঘরের ভোলবদল

•    বাড়িটা সারা বছর যেমন থাকে, এসময়টায় একটু পাল্টে নিন তার চেহারা। ধরা যাক, বিছানার চাদর-কুশন কভার, পর্দা-টেবিল ক্লথগুলো বদলে একটু উজ্জ্বল রঙের ছোঁয়া দিন তাতে। হলুদ, কমলা, সবুজ, লালের নানা রকম শেড ঘরের মুডটাই আমূল পাল্টে দিতে পারে। 
•    একটু অন্য রকমের শো-পিস, হাতের কাজ, পেন্টিং কিংবা ছবিতে ধরা পছন্দের মুহূর্তগুলোর কোলাজ, ফুলদানি আর তাজা ফুলে ঘর সাজাতে পারেন।
•    বারান্দার একটা কোণে কিংবা নিজের বাড়ি হলে ছাদের একটা ছোট্ট অংশে বেতের মোড়া দিয়ে বসার ব্যবস্থা করুন। যে বইগুলো সারাবছর পড়ি পড়ি করেও পড়া হয়ে উঠছিল না, সেগুলো পাশেই একটা ছোট্ট বুককেসে রাখুন একেবারে হাতের কাছে। পাশের দেওয়ার হাওয়ায় দুলুক অর্কিড কিংবা লতানে গাছ। অথবা থাক পাতাবাদার কিংবা প্রিয় ফুলের টব। চাইলে একটা ছোট্ট টেবিলে চায়ের ব্যবস্থাও রাখতে পারেন। একটা ইলেকট্রিক কেটলি, চা-কফির পাউচ আর কাপ। এই তো! 

মনের খোরাক

•    গান ভালবাসেন? ছুটির উইকেন্ডটা না হয় সারাদিন গানই শুনলেন ইচ্ছেমতো! প্লে-লিস্ট বানিয়ে ফেলুন আগেই। উঁহু, ফোনে নয়। পুরনো টেপরেকর্ডার, সিডিপ্লেয়ার বা গ্রামোফোন থেকে থাকলে ধুলো ঝেড়ে বার করে ফেলুন। সঙ্গে ক্যাসেট, সিডি বা রেকর্ডগুলোও। সারিয়ে নিন দরকারে। 
•    ছবি আঁকতে ভালবাসতেন, ক্রাফটও।  এদিকে শেষ কবে রং তুলি বা কাগজ-কাঁচি নিয়ে বসেছেন, খেয়াল নেই, তাই তো?  এই ছুটিটায় বসে দেখবেন নাকি নতুন করে?
•    সারাক্ষণ তো মোবাইলেই ছবি উঠছে দেদার। ছুটির দিনগুলোয় বরং ছবি তুলুন পুরনো ডিজিটাল ক্যামেরা, হ্যান্ডিক্যামটায়। বাড়িতেও সাবজেক্টের অভাব নেই কিন্তু। সপরিবারে ছুটির একটা ছোট্ট ভিডিও ফিল্ম হলে কেমন হয়? আগামীতে সেটা ফিরে দেখতে মন্দ লাগবে না কিন্ত! 
•    আর হ্যাঁ, আগেভাগে বেছে রাখুন পছন্দের বইগুলো। ল্যাপটপ আর স্মার্টফোনের স্ক্রিন যে হারে সময় গিলে খায় রোজ, নিশ্চয়ই অনেকদিন ধরেই জমছে না-পড়া বইয়ের স্তূপ। এই সুযোগে মোবাইল-ল্যাপটপকে একটু ছুটি দিয়ে পড়েই ফেলুন! 

সাধের হেঁশেল

•    বছর কাটে একঘেয়ে খাবারে। ছুটির দুটো দিন একটু অন্যরকম হোক তবে? আজকাল তো ইউটিউব কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই রেসিপির ছড়াছড়ি। সে খাঁটি বাঙালি হোক বা অন্য প্রদেশ অথবা একেবারে ভিনদেশি খানা— ইচ্ছে করলে বানিয়ে ফেলতে আর কতক্ষণ? 
•    ছুটি মানে রান্নাঘরেও ছুটি? কুছ পরোয়া নেই! রাজ্যের রেস্তোরাঁ, ক্যাফে বা ক্লাউড কিচেনগুলো আছে কী করতে হবে। মন যা চায়, খেলেই হল! 

আলসেমির আরাম

•    ছুটি মানেই শরীরটাও একটু আরাম চায়। ত্বক, চুলও একটু যত্নের অপেক্ষায় থাকে। বিভিন্ন সংস্থা বা প্ল্যাটফর্ম বাড়িতে ম্যাসাজ, স্পা বা বিউটি ট্রিটমেন্টের পরিষেবা দেয় এখন। ফোনে বা ইন্টারনেটে বুক করে নিন। তারপর শরীর, ত্বক থেকে চুল, সবারই যত্ন হোক একেবারে আলসে মেজাজে।
•    সিনেমা কিংবা সিরিজ দেখবেন? আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন তার লিস্ট। তারপর সোফায় কিংবা ডিভানে গা এলিয়ে বাড়ির স্মার্ট টিভিতে কিংবা হোম থিয়েটারে বিঞ্জ ওয়াচ। তার স্বাদই আলাদা!   

আড্ডায় মাতোয়ারা

•    বাড়ির মানুষগুলোর সঙ্গে শেষ কবে জমিয়ে গল্প করেছেন? আজকাল তো সবারই দিন কাটে মোবাইলে চোখ সেঁটে। ডিনার টেবিলে কথা হয় না আর। বরং তখন বন্ধু কিংবা কলিগের পাঠানো মিমে হাসেন, গড়গড়িয়ে আঙুল ছোটে সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায়। এই মওকায় বরং মোবাইলটাকেও ছুটি দিন। বাড়ির সবাই জমিয়ে একটু গল্প করুন। পুরনো সব কথা হোক। 
•    ভাবছেন বন্ধুরা এলেও বেশ হয়? হোক না! একটা দিন সন্ধেটা তোলা থাক হাউস পার্টির জন্য। তারপর জমজমাট আড্ডা, গান, খাওয়াদাওয়া। সঙ্গে হাসির ফোয়ারা! 

কে বলেছে ছুটি মানেই বাইরে ছুটতে হবে?
বাড়িটাই যদি হয় ছুটির ঠিকানা, সে-ও কম জমাটি হবে না কিন্তু!