অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠে অনুভব করেন যে মুখ একেবারে শুকিয়ে গিয়েছে। গলা শুষ্ক লাগে, কথা বলতে অস্বস্তি হয়, এমনকি বারবার জল খেতে ইচ্ছে করে। চিকিৎসকদের মতে, মাঝে মাঝে এমন হওয়া স্বাভাবিক হলেও যদি নিয়মিত হয়, তাহলে এর পেছনে কিছু নির্দিষ্ট কারণ থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হল শরীরে জলের অভাব। দিনভর পর্যাপ্ত জল না খেলে শরীরে লালার পরিমাণ কমে যায়। লালা মুখকে ভেজা রাখতে সাহায্য করে। তাই লালা কম তৈরি হলে ঘুম থেকে ওঠার সময় মুখ শুকনো লাগে।

আরেকটি সাধারণ কারণ হল মুখ খুলে ঘুমানো। অনেকেই ঘুমের সময় নাকের বদলে মুখ দিয়ে শ্বাস নেন। এতে বাতাস সরাসরি মুখের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করে এবং মুখের আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। বিশেষ করে নাক বন্ধ থাকা, ঠান্ডা লাগা বা অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে এই প্রবণতা বাড়ে।

চিকিৎসকদের মতে, যারা বেশি নাক ডাকেন বা ঘুমের সময় শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হয়, তাদেরও সকালে মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই অবস্থাকে অনেক সময় স্লিপ অ্যাপনিয়া বলা হয়। এতে ঘুমের সময় শ্বাস নেওয়ার ধরন বদলে যায় এবং মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া বাড়ে।

ঘরের পরিবেশও অনেক সময় এই সমস্যার কারণ হতে পারে। যদি ঘরের বাতাস খুব শুকনো হয়, যেমন এয়ার কন্ডিশনার বা হিটার বেশি ব্যবহার করা হয়, তাহলে মুখ ও গলা দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে। শীতকালে এই সমস্যা অনেকের বেশি দেখা যায়।

এছাড়া কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও মুখ শুকিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে অ্যালার্জির, ডিপ্রেশন বা উচ্চ রক্তচাপের কিছু ওষুধ লালার পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ শুকনো লাগে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, এই সমস্যা এড়াতে দিনে পর্যাপ্ত জল পান করা খুবই জরুরি। পাশাপাশি ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত কফি বা চা না খাওয়াই ভাল। নাক বন্ধ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে ঘরের বাতাসে আর্দ্রতা বজায় রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলতে থাকে বা এর সঙ্গে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, দুর্বলতা বা ঘন ঘন প্রস্রাবের মতো লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ কখনও কখনও এটি ডায়াবেটিস বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।