বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে। কিন্তু অনেক সময় অল্প বয়সেই মস্তিষ্ক সম্পর্কিত নানা সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমরা প্রতিদিন অনেক কাজ করি যা অজান্তে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও, বছরের পর বছর এই অভ্যাসগুলো চলতে থাকলে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, মনোযোগে সমস্যা, এমনকি মানসিক অসুস্থতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই প্রথম থেকেই সচেতন হওয়া দরকার।

১) অনেকক্ষণ ধরে বসে থাকা: অফিসের কাজ, মোবাইল দেখা বা টিভি—সব মিলিয়ে আমরা দিনে বহু ঘণ্টা বসে থাকি। এতে শরীরের মতো মস্তিষ্কেও রক্ত চলাচল কমে যায়। ফলে চিন্তাশক্তি ও মনোযোগে প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ৫–১০ মিনিট হাঁটা উচিত।


২) কম ঘুমানো: রোজ ৬ ঘণ্টার কম ঘুম হলে মস্তিষ্ক ঠিকমতো বিশ্রাম পায় না। ঘুমের সময়ই মস্তিষ্ক নিজেকে 'রিফ্রেশ' করে এবং অপ্রয়োজনীয় তথ্য বাদ দেয়। দীর্ঘদিন ঘুম কম হলে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, মেজাজ খিটখিটে হয়।


৩) অতিরিক্ত মোবাইল ও স্ক্রিন ব্যবহার: মোবাইল, ল্যাপটপ, টিভির নীল আলো ঘুমের ক্ষতি করে। আবার সারাক্ষণ সোশ্যাল মিডিয়া দেখলে মস্তিষ্ক বিশ্রাম পায় না। এতে মনোযোগ কমে যায় এবং উদ্বেগ বাড়তে পারে।


৪) সবসময় মানসিক চাপ: মানসিক চাপ বা স্ট্রেস থাকলে শরীরে কর্টিসল নামে হরমোন বাড়ে। দীর্ঘদিন এভাবে চললে স্মৃতিশক্তির ক্ষতি হতে পারে। তাই কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়া, গান শোনা বা মেডিটেশন করা উপকারী।


৫) অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া: অতিরিক্ত তেল, ভাজাভুজি, জাঙ্ক ফুড, বেশি চিনি-এসব মস্তিষ্কের জন্য ভাল নয়। এতে শরীরে প্রদাহ বাড়ে, যা ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় প্রভাব ফেলে। ফল, সবজি, বাদাম ও মাছ বেশি খাওয়া উচিত।


৬) একা থাকা বা কম কথা বলা: মানুষ সামাজিক প্রাণী। বন্ধু-পরিবারের সঙ্গে কথা না বললে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত উদ্দীপনা পায় না। এতে মন খারাপ, একাকিত্ব ও স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি বাড়তে পারে।


৭) ব্যায়াম না করা: নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম বা হালকা শরীরচর্চা মস্তিষ্কে অক্সিজেন ও রক্ত সরবরাহ বাড়ায়। এতে মন ভাল থাকে এবং স্মৃতিশক্তিও উন্নত হয়।


চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেন, ছোট ছোট বদল আনলেই বড় উপকার পাওয়া যায়। নিয়মিত শরীরকে সক্রিয় রাখা, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন-এই কয়েকটি অভ্যাস মেনে চললে মস্তিষ্ক দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব।