অনেক সময় মহিলারা শরীরের ছোটখাটো সমস্যা যেমন ক্লান্তি, পেট ফুলে যাওয়া বা হজমে অসুবিধা হালকাভাবে দেখেন। কিন্তু এসবই হতে পারে ক্যানসারের প্রথম সতর্ক সংকেত, যা সময়মতো শনাক্ত না করলে রোগ জটিল হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, শরীরের এসব পরিবর্তনকে উপেক্ষা না করে তৎক্ষণাৎ পরীক্ষা করানো উচিত। বিশেষ করে স্তন, সার্ভিক্স (জরায়ু), ওভারিয়ান ক্যানসারের প্রাথমিক সময় নীরবভাবেই শুরু হয়। সেক্ষেত্রে কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন, জেনে নিন- 

১. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি: যদি অকারণ শরীর সবসময় ক্লান্ত মনে হয় বা এনার্জি না থাকে, তবে পরীক্ষা করানো জরুরি।

২. অনিয়মিত রক্তপাতঃ ঋতুস্রাবের বাইরে রক্তপাত, যৌন সম্পর্কের পর রক্তপাত বা মেনোপজের পর রক্তপাত-এগুলোকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়।

৩. পেট ফুলে যাওয়া বা ব্যথা: শরীরে অস্বাভাবিক ফোলাভাব বা পেট ভারী লাগা ওভারিয়ান ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

৪. ওজন পরিবর্তন বা হজম সমস্যা: একধাক্কায় অনেকটা ওজন কমে যাওয়া, হজমে সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্য-এগুলোও সতর্কতার সংকেত।

৫. স্তনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন: লাম্প না থাকলেও স্তনের আকার, স্তনবৃন্ত থেকে তরল নির্গত হওয়া বা স্থায়ী ব্যথা-এগুলো স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

৬. প্রস্রাব বা মলের পরিবর্তন:প্রস্রাবের ঘনত্ব বা ফ্রিকোয়েন্সি বেড়ে যাওয়া, মলের ধরন বদল বা কোষ্ঠকাঠিন্যও উপেক্ষা করা উচিত নয়।

চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের লক্ষণ যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অনেক সময় রোগ নীরবভাবে শুরু হয়, তাই শুরুর ধাপে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর। আসলে ক্যানসারের মতো রোগের ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে পরীক্ষা ও সচেতনতা জীবন বাঁচাতে সাহায্য করে। তাই নিজের শরীরের ছোটখাটো পরিবর্তনকেও হালকাভাবে দেখা ঠিক নয়।