ডায়াবেটিস থাকলে হার্ট, কিডনি বা চোখের সমস্যা হতে পারে, একথা অনেকেই জানেন। কিন্তু দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে কানের ভেতরের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে! এই বিষয়ে জানা আছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিসের প্রভাবে ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে শ্রবণশক্তি। 

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ শরীরের সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কানের ভেতরে থাকা কক্লিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল অংশ, যা ঠিকমতো কাজ করতে ভাল রক্তসঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। রক্ত চলাচল ব্যাহত হলে শব্দ স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে সঠিকভাবে পৌঁছতে পারে না। ফলে শ্রবণশক্তি কমতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রথম দিকে উচ্চ-পিচের বা তীক্ষ্ণ শব্দ শুনতে সমস্যা হয়। যেমন মোবাইলের রিংটোন, পাখির ডাক বা ভিড়ের মধ্যে কারও কথা স্পষ্ট না শোনা। অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। কিন্তু টিভির ভলিউম বাড়িয়ে দেওয়া, বারবার কথা পুনরাবৃত্তি করতে বলা- এসব হতে পারে সতর্কবার্তা।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে কানের ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি।

চিকিৎসকেরা মনে করেন, ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত সুগার পরীক্ষা করার পাশাপাশি কানের পরীক্ষা করানো উচিত। বিশেষ করে যাঁদের বহু বছর ধরে ডায়াবেটিস রয়েছে, তাঁদের বছরে অন্তত একবার হিয়ারিং টেস্ট করানো ভাল। এতে সমস্যা দ্রুত ধরা পড়ে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা যায়।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ওষুধ খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।  এইচবিএ১সি মাত্রা ৭ শতাংশের নিচে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার ঝুঁকি কমে।

সবমিলিয়ে, ডায়াবেটিস শুধু শরীরের বড় অঙ্গ নয়, কানের মতো সংবেদনশীল অঙ্গেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সময় থাকতে সচেতন হওয়াই শ্রেয়, বলছেন চিকিৎসকেরা।