রাজ্য সরকারের যেমন স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প রয়েছে, তেমনই কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা। আপনি কি চাইলেই এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন? কী কী নিয়ম মানতে হবে? জেনে নিন বিস্তারিত। 

সরকারের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে সবাই আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা র সুবিধা পাবেন না। নির্দিষ্ট নাগরিকরাই পাবেন। এই প্রকল্প মুকোট গরীব এবং দুঃস্থদের সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার জন্য আনা হয়েছে। ফলে যাঁরা অসংগঠিত সেক্টরে যাঁরা কাজ করেন বা আর্থিক ভাবে যাঁরা দুর্বল তাঁরা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন। 

কী কী সুবিধা পাবেন?

যাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় পড়বেন তাঁরা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা করাতে পারবেন। সরকার তাঁর হয়ে সেই টাকা দেবে। যে কোনও বড় অপারেশন বা এই জাতীয় কোনও সমস্যায় এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের বিশেষ সাহায্য হবে। যে হাসপাতাল এই যোজনার সঙ্গে যুক্ত সেখানে এবং সরকারি হাসপাতালে এর সুবিধা পাওয়া যাবে।

কারা কারা আয়ুষ্মান কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন? 

১. গ্রামীণ এলাকার গরীব পরিবার।

২. যে শ্রমিকরা অসংগঠিত সেক্টরে কাজ করেন।

৩. এসসি এবং এসটি। 

৪. যে পরিবারের কোনও সদস্য বিশেষ ভাবে সক্ষম। 

৫. দিনমজুর, পরিচারিকা, রিকশাচালক, প্রমুখ। 

মোদ্দাকথায় সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর নাগরিকদের জন্যই এই প্রকল্প আনা হয়েছে, যাতে তাঁরা ভাল চিকিৎসা পরিষেবা পান। 

কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না? 

* যাঁরা সংগঠিত সেক্টরে কাজ করেন এবং যাঁদের পিএফ কাটা হয়। 

* যাঁরা ইএসআইয়ের সুবিধা পান। 

* যাঁরা আয়কর দেন। 

* যাঁদের প্রচুর জায়গা জমি বা পাকা বাড়ি আছে। 

* যাঁদের ৫ একরের বেশি চাষের জমি আছে। 

* যাঁরা চাষের কাজে মেশিন বা বড় চাষের সরঞ্জাম ব্যবহার করুন। 

* যাঁদের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার বেশি। 

* যাঁদের দামী গাড়ি আছে। 

* যাঁরা ৫০ হাজার টাকার বেশি কৃষি ঋণ নিয়েছেন। 

* সরকারি কর্মীরা। 

* সরকার স্পন্সরড হেলথ ইন্স্যুরেন্স আছে যাঁদের। 

যাঁরা এই সুবিধা পাওয়ার তালিকায় পড়ছেন না, তাও কোনওভাবে আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায় নিজের নাম নথিভুক্ত করিয়ে সুবিধা নেন, তাঁদের যদি ছলচাতুরি ধরা পড়ে তবে যত টাকার সাহায্য পেয়েছেন সেটা ফেরত দিতে হবে। এমনকী আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে তাঁদের বিরুদ্ধে।