অনেকেই কাশি হলে সেটিকে খুব সাধারণ সমস্যা বলে এড়িয়ে যান। মনে করেন, ঠান্ডা লেগেছে, কিছুদিন পর ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু সব কাশি একরকম নয়। কখনও কখনও এই সাধারণ কাশিই শরীরের ভেতরে বড় কোনও রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই কাশি নিয়ে সচেতন থাকা খুব জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ সর্দি-কাশি হলে তা ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে কমে যায়। কখনও কখনও ২ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। কিন্তু যদি কাশি ২–৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলে, তাহলে সেটা আর স্বাভাবিক নয়। তখন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দীর্ঘদিন কাশি থাকা মানে শরীরে অন্য কোনও সমস্যা থাকতে পারে।
কাশির সঙ্গে যদি কিছু বিশেষ লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে একেবারেই দেরি করা উচিত নয়। যেমন কাশির সঙ্গে রক্ত বের হওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, বুকে ব্যথা, বারবার জ্বর আসা, বা হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া। এগুলো গুরুতর অসুখের লক্ষণ হতে পারে। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন।
কাশির ধরন বদলালেও সতর্ক হওয়া দরকার। ধরুন, আগে শুকনো কাশি ছিল, পরে কফসহ কাশি শুরু হল। বা কাশি দিনের তুলনায় রাতে বেশি হচ্ছে। এগুলোও শরীরের ভেতরের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। যারা ধূমপান করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। কারণ ধূমপানের ফলে ফুসফুসে নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে।
কাশিতে ভুগলে অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খেয়ে নেন। কাশির সিরাপ বা অ্যান্টিবায়োটিক খেতে আকছার দেখা যায়। এতে হয়তো সাময়িকভাবে কাশি কমে, কিন্তু আসল সমস্যা ঠিক হয় না। বরং রোগ লুকিয়ে থেকে পরে আরও বড় আকার নিতে পারে। তাই নিজে নিজে চিকিৎসা না করে চিকিৎসরকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
কাশির পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন সাধারণ ঠান্ডা, অ্যালার্জি, ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া, টিবি, হাঁপানি-এমনকি ফুসফুসের গুরুতর রোগও হতে পারে। তাই কাশি দীর্ঘদিন থাকলে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়।
সহজভাবে বললে, কাশি ছোট সমস্যা মনে হলেও সবসময় তা ছোট নয়। যদি কাশি অনেকদিন ধরে থাকে বা অন্য অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে পরীক্ষা করানোই ভাল। কারণ সময়মতো রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসা সহজ হয় এবং বড় বিপদ এড়ানো যায়।















