আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাতে যখন আপনি ঘুমিয়ে পড়েন নিশ্চিন্তে, তখন শুরু হয় এক নিঃশব্দ উৎসব। না, কোনও ভূতের গল্প নয়, এ ঘটনা একেবারে বাস্তব। আপনার চোখের পাতার ভেতরে, ভ্রুর গোড়ায়, এমনকি ত্বকের লোমকূপে গোপনে বসবাস করে এক দল ক্ষুদ্র জীব—ডেমোডেক্স ফলিকুলোরম। মাইক্রোস্কোপ ছাড়া যাদের চেনার উপায় নেই, কিন্তু তবু তারা দিনরাত ঘোরে আপনার মুখে, আর রাতে? তারা জোড়া বাঁধে... একেবারে আপনার ত্বকের উপরেই।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রায় ৯০ শতাংশের শরীরেই থাকে এই অনাহূত অতিথিরা। এদের দৈর্ঘ্য মাত্র ০.৩ মিলিমিটার। এতটাই ক্ষুদ্র যে টের পাওয়ার উপায়ই নেই। কিন্তু এরা ঠিকই জানে, কখন কুয়াশাভেজা রাত নামবে, আর কখন ত্বকের গভীর থেকে উঠে এসে সঙ্গী খোঁজা শুরু করবে।

তবে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। এরা তেমন ক্ষতিকর নয়। বরং, মৃত ত্বক ও তৈলগ্রন্থির নিঃসরণ খেয়েই জীবনধারণ করে। একরকম ‘ফেস ক্লিনার’ বলা যেতে পারে। কিন্তু এই গল্পে এক ভয়ংকর মোচড় আছে।

এই ডেমোডেক্স মাইটদের শরীরে মলদ্বার নেই। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। জীবনের শেষ অবধি এরা শরীরে বিষাক্ত বর্জ্য জমিয়ে রাখে। মৃত্যু হলে সেই দেহ ফেটে যায়, এবং সবকিছু মিশে যায় আপনার ত্বকে। শুনতে গা শিউরে ওঠে, কিন্তু বাস্তবে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশিরভাগ সময় ঠিকই সামলে নেয় এই জৈবিক ধ্বংসাবশেষ।

এদের এতটাই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে মানুষের সঙ্গে যে, অনেক বিজ্ঞানী বলছেন, এরা আমাদের মাইক্রোবায়োমেরই অংশ হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে। মানে, ঠিক যেমন আমাদের অন্ত্রে বাস করে সহায়ক ব্যাকটেরিয়া, তেমনি ত্বকে এখন বাস করে এই রাত্রিকালীন প্রেমিকেরা।

সুতরাং, পরের বার যখন আপনি মুখ ধুচ্ছেন আয়নার সামনে, একটু থেমে ভাবুন—আপনার ত্বকের নিচে ঠিক এখনই হয়তো কেউ একজন কাউকে প্রেমের আহ্বান জানাচ্ছে!