স্বাদেই নয়, শীতকালে মিষ্টি আলু শরীরের জন্যও ভীষণ উপকারী। আয়ুর্বেদ ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, দু’দিক থেকেই মিষ্টি আলুকে শীতের আদর্শ খাবার হিসাবে মানা হয়। তাই অনেকেই একে বলেন শীতের ‘প্রাকৃতিক শক্তির ভাণ্ডার’।
দেখতে সাধারণ আলুর মতো হলেও পুষ্টিগুণে মিষ্টি আলু অনেকটাই এগিয়ে। যেখানে আলুতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি, সেখানে মিষ্টি আলু ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবারে ভরপুর। বহু বছর ধরেই এটি ভারতীয় খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মিষ্টি আলু দ্রুত শক্তি জোগায়, আবার পেট ভারী করে না। ফলে সারাদিন চনমনে থাকা যায়।
চোখের স্বাস্থ্যে দারুণ উপকারী
আজকের দিনে দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের শুষ্কতা ও জ্বালাপোড়া খুব সাধারণ সমস্যা। মিষ্টি আলুতে প্রচুর বিটা-ক্যারোটিন থাকে, যা শরীরে গিয়ে ভিটামিন এ-তে পরিণত হয়। এই ভিটামিন চোখের দৃষ্টি ভাল রাখতে ও কর্নিয়াকে সুস্থ রাখতে অত্যন্ত জরুরি। শিশু থেকে প্রবীণ, সকলের জন্যই শীতে মিষ্টি আলু একেবারে প্রাকৃতিক টনিক।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
শীতকালে সর্দি-কাশি, সংক্রমণ ও ভাইরাল জ্বরের ঝুঁকি বেড়ে যায়। মিষ্টি আলুতে থাকা ভিটামিন সি ও আয়রন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরকে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং ভিতরের প্রদাহ কমায়। এর উষ্ণ প্রকৃতি ঠান্ডায় শরীরকে ভিতর থেকে গরম রাখে।
হজম ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
ফাইবারের মাত্রা বেশি হওয়ায় মিষ্টি আলু হজমতন্ত্রের জন্য খুবই উপকারী। এটি মেটাবলিজম বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। যাঁরা ওজন কমাতে চাইছেন, তাঁদের জন্য মিষ্টি আলু একটি ‘ওয়েট-লস ফ্রেন্ডলি’ খাবার। খাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও তুলনামূলক নিরাপদ
অনেকে ভাবেন, মিষ্টি হওয়ায় মিষ্টি আলু খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে সাদা আলুর তুলনায় মিষ্টি আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। ফলে এটি হঠাৎ করে ব্লাড সুগার বাড়ায় না। পরিমিত পরিমাণে সেদ্ধ বা ভাজা মিষ্টি আলু ডায়াবেটিস রোগীরাও খেতে পারেন।
হার্টের যত্নে
মিষ্টি আলুতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে। সর্বোচ্চ উপকার পেতে হলে মিষ্টি আলু সেদ্ধ খাওয়াই সবচেয়ে ভাল। ডিপ ফ্রাই করা বা অতিরিক্ত চিনি যোগ করলে এর পুষ্টিগুণ অনেকটাই কমে যেতে পারে।
