ঋতু পরিবর্তনের সময় শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এর ফলে সর্দি, কাশি, জ্বর ও নানা ধরনের ভাইরাল সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই সময়ে খাদ্যাভ্যাসে ফল রাখলে তা শরীর সুস্থ রাখতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। ফলের মধ্যে থাকা ভিটামিন, খনিজ উপাদান, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ ফল নিয়মিত খেলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং নানা অসুখ থেকে শরীরকে রক্ষা করা যায়।
বর্তমানে আবহাওয়ার পরিবর্তনের মধ্যে কমলা, কিউই, বেদানা, আপেল, পেঁপে ও পেয়ারার মতো ফল শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই ফলগুলিতে থাকা ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সর্দি-কাশি ও ভাইরাল সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
হার্ভার্ড হেলথের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কমলালেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে, যা ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য খুবই জরুরি। এটি শুধু ভাইরাল সংক্রমণ ও সর্দি-কাশির বিরুদ্ধে কাজ করে না, ত্বককেও সুস্থ রাখে। প্রতিদিন একটি করে কমলালেবু খেলে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বাড়ে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা মজবুত হয়।
কিউই ফল ভিটামিন সি ও ভিটামিন কে-র দারুণ উৎস। এতে থাকা ফাইবার হজমশক্তি ভাল রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত কিউই খেলে শরীরের প্রদাহ কমে এবং ইমিউন সিস্টেম সক্রিয় থাকে। মিষ্টি ও হালকা টক স্বাদের জন্য ছোট-বড় সকলের কাছেই এই ফল জনপ্রিয়।
বেদানায় রয়েছে পটাশিয়াম, ভিটামিন সি ও পলিফেনল জাতীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলি শরীরের কোষকে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বেদানার রসও এই ক্ষেত্রে উপকারী বলে মনে করা হয়।
ইমিউনিটি শক্তিশালী করতে আপেলও খুব কার্যকর। আপেলে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা হৃদযন্ত্র ও হজমের জন্য ভাল। ঋতু পরিবর্তনের সময় প্রতিদিন একটি আপেল খেলে শরীর সহজেই নানা রোগের সঙ্গে লড়াই করতে পারে।
পেঁপে ভিটামিন এ, সি ও ই-র ভাল উৎস। এতে থাকা প্রাকৃতিক এনজাইম হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং শরীরকে ভিতর থেকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত পেঁপে খেলে ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয় এবং ত্বকও সুস্থ থাকে।
পেয়ারায় প্রচুর ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। পাশাপাশি এটি ফাইবারের ভাল উৎস, যা কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজমজনিত সমস্যা কমায়। প্রতিদিন একটি পেয়ারা খেলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং শীতকালে সর্দি-জ্বর ও ভাইরাল সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
ঋতু পরিবর্তনের সময় নিয়মিত ফল খাওয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। চেষ্টা করা উচিত ফল তাজা অবস্থায় ও অতিরিক্ত চিনি ছাড়াই খাওয়ার। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল পান, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চাও ইমিউনিটি বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে। এই সহজ অভ্যাসগুলি মেনে চললে সহজেই সুস্থ থাকা সম্ভব।
