তড়প’ দিয়ে বলিউডে পা রাখা থেকে শুরু করে ‘বর্ডার ২’-এর দেশপ্রেমিকের চরিত্রে ভারী উত্তরাধিকার -আহান শেট্টি ধীরে ধীরে নিজস্ব জায়গা তৈরি করছেন হিন্দি ছবির দুনিয়ায়। একদিকে তিনি নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি, অন্যদিকে বহন করছেন এক অসাধারণ অভিনেতার পারিবারিক সফরের উত্তরাধিকার।
2
8
বলিউডে আত্মপ্রতিষ্ঠার পথে এগোতে এগোতে আহান শেট্টি প্রমাণ করছেন, তাঁর শুধুই একটি পরিচিত পদবি নেই, বরং তাঁর উপস্থিতিতে যেমন রয়েছে ধারাবাহিকতা, তেমনই রয়েছে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত।
3
8
আহানের শিকড় পৌঁছে যায় তাঁর দাদু বীরাপ্পা শেট্টির জীবনের সংগ্রামী অধ্যায়ে। মাত্র ন’ বছর বয়সে ম্যাঙ্গালোর থেকে মুম্বইয়ে এসে পৌঁছেছিলেন তিনি। শুরুটা ছিল উদুপি রেস্তরাঁয় বেয়ারার কাজ দিয়ে। প্রতিদিন দীর্ঘক্ষণ কাজের পর চালের বস্তার উপর ঘুমিয়ে কাটত রাত তাঁর। কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য মানসিকতার জোরে তিনি ধীরে ধীরে হোটেলের ম্যানেজার হন, তারপর নিজেই গড়ে তোলেন একাধিক সফল রেস্তরাঁ। একেবারে শূন্য থেকে উঠে এসে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার এই যাত্রাই শেটি পরিবারের ভিত গড়ে দেয়, যার মূল মূল্যবোধ শৃঙ্খলা আর লড়াই করে এগিয়ে চলা।
4
8
এই উত্তরাধিকার পরের প্রজন্মে আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে আহানের বাবা সুনীল শেট্টির হাত ধরে। নয়ের দশকে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অ্যাকশন তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ‘মোহরা’, ‘হেরা ফেরি’, ‘ধড়কন’-এর মতো ছবিতে অ্যাকশন, কমেডি ও আবেগ-সব ঘরানায় নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন সুনীল। তবে জেপি দত্ত পরিচালিত ‘বর্ডার’ (১৯৯৭)-এ ক্যাপ্টেন ভৈরোঁ সিংয়ের চরিত্রটি আজও তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়। দেশপ্রেমে ভরপুর সেই ছবি আর তার গান ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক।
5
8
এই পারিবারিক উত্তরাধিকারের পরবর্তী অধ্যায়ে বলিউডে পা রাখেন আহান শেটি। মিলন লুথরিয়া পরিচালিত ‘তড়প’ ছবিতে তারা সুতারিয়ার বিপরীতে তাঁর অভিষেক হয়। তেলুগু হিট ‘আরএক্স ১০০’-এর রিমেক এই ছবিতে তাঁকে দেখা যায় এক তীব্র, আবেগপ্রবণ প্রেমিকের চরিত্রে। ছবিটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও, আহানের 'র’ এনার্জি আর স্ক্রিন প্রেজেন্স নজর কেড়েছিল অনেকেরই। নতুন অভিনেতা হিসেবে তাঁর সম্ভাবনার ইঙ্গিত স্পষ্ট ছিল।
6
8
২০২৬ সালে এসে সেই সম্ভাবনা আরও বড় মাপে ধরা দেয় ‘বর্ডার ২’-এর মাধ্যমে। জেপি দত্তের কালজয়ী যুদ্ধছবির সিক্যুয়েলে সানি দেওলের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেন আহান। এই ছবি তাঁর পরিবারের কাছে ছিল আবেগের ভারে ভরপুর কারণ মূল ‘বর্ডার’-এ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ছিলেন তাঁর বাবা সুনীল শেট্টি। দর্শকদের কাছেও ইউনিফর্মে সুনীল শেট্টির ছেলেকে দেখা ছিল প্রতীকি মুহূর্ত, যেন এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে দেশপ্রেমের গল্পের হস্তান্তর।
7
8
‘বর্ডার ২’ আহানকে শুধুমাত্র ‘স্টার কিড’ তকমা থেকে বের করে এনে একজন সম্ভাবনাময় অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলেই মনে করছেন অনেকে। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে শোনা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে তিনি অ্যাকশন-নির্ভর ছবির পাশাপাশি রোম্যান্টিক ড্রামাতেও কাজ করার কথা ভাবছেন। বাণিজ্যিক গ্রহণযোগ্যতা আর অভিনয়নির্ভর চরিত্রের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই নাকি তাঁর লক্ষ্য।
8
8
সব মিলিয়ে, আহান শেটির যাত্রাপথে স্পষ্ট। তিনি বাবার বহুমুখী উত্তরাধিকারকে সঙ্গে নিয়েই নিজের সময়ের ভাষায়, নিজের ছন্দে এগোতে চান। আর সেই পথচলাই হয়তো আগামী দিনে তাঁকে বলিউডের নতুন প্রজন্মের এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ করে তুলবে।