বাঙালি মানেই চা-বিস্কুট। চায়ের সঙ্গে বিস্কুট ছাড়া একপ্রকার চলেনা৷ বাঙালি আড্ডায় এই দুটি না থাকা মানে আড্ডা অসম্পূর্ণ থেকে যায়৷ এই বিস্কুট নিয়েই এবার কিছু আশ্চর্য তথ্য সামনে এলো।
2
6
বিস্কুটের গায়ে ছোট ছোট ফুটো আমরা সকলেই দেখেছি। নোনতা হোক বা মিষ্টি- বিস্কুটের পিঠে এই ছিদ্রগুলো সকলেরই চেনা ছবি। আমাদের অনেকেরই ধারণা, বিস্কুটকে দেখতে সুন্দর করতেই এই কারুকার্য। কিন্তু জানলে অবাক হবেন, এই ফুটোগুলোর নেপথ্যে কোনও শিল্প নয়, বরং কাজ করে খাঁটি বিজ্ঞান।
3
6
বিস্কুট তৈরির সময় ময়দা যখন উনুনে বা ওভেনে সেঁকা হয়, তখন তার ভিতরের বাতাস গরম হয়ে প্রসারিত হয়। ছিদ্র না থাকলে সেই গরম বাতাস বিস্কুটের শরীর ফুঁড়ে বেরোতে পারত না। ফলে বিস্কুটটি লুচির মতো ফুলে উঠত অথবা মাঝখান থেকে ফেটে যেত। বিস্কুটকে চ্যাপ্টা এবং সমান রাখতেই এই 'ভেন্টিলেশন' বা হাওয়া চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়।
4
6
বিস্কুটের আসল গুণ হল তার মুচমুচে ভাব। এই ছিদ্রগুলো দিয়ে বাষ্প বেরিয়ে যায় বলেই বিস্কুটটি ভেতর থেকে ঠিকঠাক সেঁকা হয় এবং শক্ত থাকে। যদি এই ছিদ্র না থাকত, তবে বিস্কুট নরম হয়ে যেত, যা খাওয়ার অভিজ্ঞতাই মাটি করে দিত।
5
6
মজার বিষয় হল, এই ছিদ্রগুলো কিন্তু যে কেউ যেখানে খুশি করে না। বিস্কুট কতটা বড় বা তাতে কতটা চিনি আছে, তার ওপর ভিত্তি করে মেপে মেপে এই ফুটোগুলো করা হয়। বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় 'ডকিং'। ছিদ্র বেশি হলে বিস্কুট ভেঙে যেতে পারে, আবার কম হলে তা ঠিকমতো সেঁকা হবে না।
6
6
তাই বিকেলে চায়ের কাপে যখন প্রিয় বিস্কুটটি ভেজাবেন, জানবেন ওই ফুটোগুলো শুধু দেখার জন্য নয়, আপনার স্বাদের কথা ভেবেই অত্যন্ত যত্ন করে বানানো হয়েছে।