বর্তমানে অল্প বয়সেই জাঁকিয়ে বসছে অনিদ্রার সমস্যা। সারাদিন পরিশ্রমের পরও রাতে দু'চোখের পাতা এক হয় না অনেকের। কিন্তু সুস্থতার জন্য ঘুম যে অত্যন্ত জরুরি। রোজ ঘুমের ওষুধ খাওয়াও স্বাস্থ্যের জন্য ঠিক নয়। তবে ঘুম না আসার কারণ ঠিক কী?
সম্প্রতি একটি বড় গবেষণায় জানা গিয়েছে, আমাদের ঘুমের সমস্যা আর পেটের ভেতরের ভাল-খারাপ ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ৪ লক্ষেরও বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই গবেষণা করেছেন চীন ও আমেরিকার বিজ্ঞানীরা। যেখানে দেখা গিয়েছে, অন্ত্রে থাকা কিছু ব্যাকটেরিয়া আমাদের ঘুমের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণায় মোট ১৪ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে অনিদ্রার (ঘুম না হওয়া) ঝুঁকি বেশি থাকার সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছে। আবার ৮ ধরনের ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, যেগুলো ঘুম ভাল রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ক্লোস্ট্রিডিয়াম ইনোকুয়াম নামে একটি ব্যাকটেরিয়া যাদের শরীরে বেশি থাকে, তাদের অনিদ্রার ঝুঁকি বেশি দেখা গিয়েছে। যদিও এই ব্যাকটেরিয়াটি সাধারণত খুব ক্ষতিকর নয়, তবুও ঘুমের সমস্যার সঙ্গে এর যোগ পাওয়া রয়েছে।
তবে বিষয়টা শুধু একদিক থেকে নয়। মানে, শুধু পেটের ব্যাকটেরিয়া ঘুমকে খারাপ করে না, ঘুমের সমস্যাও আবার পেটের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। ফলে একটি চক্র তৈরি হয়। যেমন, আপনি ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না, এতে পেটের স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে। আবার পেটের সমস্যা বাড়লে ঘুম আরও খারাপ হচ্ছে। এই দুইয়ে মিলে সমস্যা আরও বেড়ে যায়।
এই সম্পর্ককে বলা হয় ‘গাট-ব্রেন সংযোগ’। অর্থাৎ আমাদের পেট আর মস্তিষ্ক একে অপরের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখে। আগে থেকেই জানা ছিল, এই সংযোগ মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা স্নায়ুর নানা সমস্যার সঙ্গে জড়িত। এখন দেখা যাচ্ছে, ঘুমের ক্ষেত্রেও এর বড় ভূমিকা আছে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, কিছু ব্যাকটেরিয়া শরীরে এমন রাসায়নিক তৈরি বা নিয়ন্ত্রণ করে, যা আমাদের ঘুমের উপর প্রভাব ফেলে। যেমন মস্তিষ্কে বার্তা পাঠানো কিছু রাসায়নিক বা শরীরের প্রদাহের মাত্রা। তবে ঠিক কীভাবে এই পুরো প্রক্রিয়া কাজ করে, তা এখনও পুরোপুরি বোঝা যায়নি।
এছাড়া, ঘুমের সমস্যা শুধু পেটের জন্যই হয় না। মানসিক চাপ, অগোছালো জীবনযাপন, বেশি স্ক্রিন ব্যবহার বা খারাপ ঘুমের অভ্যাস—এসবও বড় কারণ হতে পারে।
তবে এই গবেষণা নতুন আশার কথাও বলছে। ভবিষ্যতে এমন চিকিৎসা আসতে পারে, যেখানে প্রোবায়োটিক বা বিশেষ খাবারের মাধ্যমে পেটের ব্যাকটেরিয়া ঠিক করে ঘুমের সমস্যা কমানো যাবে। তবে একথা বলা যায়, ভাল ঘুম আর ভাল হজম—দুটোই একে অপরের সঙ্গে জড়িত। তাই সুস্থ থাকতে গেলে শুধু ঘুম নয়, পেটের স্বাস্থ্যের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া খুব দরকার।















