ব্রণ ত্বকের একটি খুবই সাধারণ সমস্যা। বয়স কম হোক বা বেশি, অনেকেই এই সমস্যায় ভোগেন। নানা ধরনের স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করেও অনেক সময় ব্রণ কমে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে শুধু ত্বকের যত্ন নয়, খাবারেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। চিকিৎসকদের দাবি, প্রতিদিনের কিছু খাবার ব্রণর সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এই ধরনের খাবার কম খাওয়ার পরামর্শ দেন তাঁরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চিনি রয়েছে এমন ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কোল্ডড্রিঙ্ক, চকোলেট, কেক, পেস্ট্রি, মিষ্টি বা আইসক্রিমের মতো খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে শরীরে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে এবং ত্বকে তেলের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত তেল থেকেই অনেক সময় ব্রণ তৈরি হয়।
চিকিৎসকদের একাংশের মতে, জাঙ্ক ফুডও ব্রণের সমস্যা বাড়াতে পারে। বার্গার, পিৎজা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস বা অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়ায়। এর প্রভাব ত্বকের উপরও পড়ে। নিয়মিত ফাস্ট ফুড খেলে অনেকের মুখে ছোট ছোট পিম্পল, ব্ল্যাকহেডস বা বড় ব্রণ দেখা দিতে পারে।
এছাড়া কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারও সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। দুধ, চিজ বা আইসক্রিমে থাকা কিছু উপাদান শরীরে হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ত্বকে তেল বেশি তৈরি হয় এবং ব্রণের সমস্যা বাড়তে পারে। যদিও এই প্রভাব সবার ক্ষেত্রে একরকম নয়।
প্যাকেটজাত ও প্রসেসড খাবার নিয়েও সতর্ক করেন চিকিৎসকরা। ইনস্ট্যান্ট নুডলস, প্রসেসড স্ন্যাকস বা অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভযুক্ত খাবারে সাধারণত বেশি লবণ, তেল ও কৃত্রিম উপাদান থাকে। এগুলি শরীরের পাশাপাশি ত্বকের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে বলছেন, সব খাবার একেবারে বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। বরং পরিমাণ বুঝে খাওয়া এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বেশি করে জল খাওয়া, টাটকা ফল, শাকসবজি, ডাল ও প্রোটিনযুক্ত খাবার খেলে ত্বক ভাল থাকে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কম রাখাও জরুরি।
চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেন, যদি বারবার ব্রণের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে শুধু ক্রিম বা ফেসওয়াশের উপর নির্ভর না করে খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
সুস্থ ত্বকের জন্য বাইরের যত্নের পাশাপাশি শরীরের ভিতরের যত্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।















