দুর্ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার৷ ঘরের মধ্যে খেলা করছিল শিশুটি৷ খেলতে খেলতে ঘর থেকে বেরিয়ে বাথরুমের দিকে চলে যায় শিশুটি৷ বাথরুমের একপাশে রাখা ছিল এক বালতি জল৷ খেলতে খেলতে বালতির জলের মধ্যে ঝুঁকে পড়ে শিশুটি। তৎক্ষণাৎ জলে পড়ে যায় শিশুটি৷
কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে তার বাবা বাথরুমের কাছে এসে দেখেন৷ শিশুটিকে তখনই কোলে তুলে নেন৷ সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতলে নিয়ে যাওয়া হয় শিশুটিকে কিন্তু চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন৷
চিকিৎসকরা বলছেন, এক থেকে চার বছরের শিশুদের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ ডুবে যাওয়া। সবচেয়ে ভয়ের কথা — মাত্র এক-দুই ইঞ্চি জলেও শিশু ডুবে যেতে পারে, তা-ও নিঃশব্দে, চোখের পলকে। ছোট শিশুর শরীরের উপরের অংশ ভারী; ভারসাম্য হারালে তারা মাথা নীচু করে সামনের দিকে পড়ে যায়। হাতের পেশি যথেষ্ট শক্ত না হওয়ায় বালতি, গামলা বা টবের ভিতর থেকে তারা নিজেকে টেনে তুলতে পারে না। তাই অর্ধেক ভরা একটি বড় বালতিও হয়ে উঠতে পারে মারাত্মক।
কী কী সতর্কতা জরুরি?
প্রথমত, ব্যবহারের পরেই বালতি, গামলা, টব ও ড্রাম খালি করে উপুড় করে রাখুন।
দ্বিতীয়ত, বাথরুমের দরজা সবসময় বন্ধ রাখুন; কমোডের ঢাকনা নামিয়ে রাখুন
তৃতীয়ত, স্নান করানোর সময় শিশুকে এক মুহূর্তের জন্যও একা ফেলে যাবেন না।
চতুর্থত, শিশু জলের কাছে থাকলে ‘হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায়’ — এমন দূরত্বে থাকুন, মনোযোগ যেন অন্যদিকে না সরে।
বাঙালি ঘরে বালতি-ড্রামে জল ধরে রাখা রোজকার অভ্যাস। আর গ্রামবাংলায় তো প্রায় প্রতি বাড়ির পাশেই পুকুর। তাই এ রাজ্যে সতর্কতা আরও জরুরি। উঠোনের পুকুর বা জলাশয়ের চারপাশে বেড়া দিন, ছোট শিশুকে কখনও সেখানে একা ছাড়বেন না। বর্ষায় জমা জল, খোলা চৌবাচ্চাও বিপদ ডেকে আনতে পারে৷















