অনেকেই দুধ এবং ফল একসঙ্গে খেতে পছন্দ করেন। তাঁরা মনে করেন, এতে পুষ্টি মেলে। কিন্তু এই সংমিশ্রণ কি আদৌ স্বাস্থ্যকর? আশঙ্কার মূল কারণ হিসাবে ধরা হয় ফলের অ্যাসিডিক উপাদান ও দুধের মধ্যে সম্ভাব্য রাসায়নিক বিক্রিয়া, যা নাকি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তবে বিষয়টা এতটা সহজ নয়।

এই বিষয়ে ভ্রান্ত ধারণা ভাঙতে এগিয়ে এসেছেন ফিটনেস কোচ রালস্টন ডি’সুজা। ২১ জানুয়ারি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে তিনি ফল ও দুধ একসঙ্গে খাওয়া নিয়ে প্রচলিত আতঙ্কের ব্যাখ্যা দেন।

সকালের জলখাবারে ফল ও দুধের সংমিশ্রণ বহু মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত। কিন্তু দুধ কেটে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই এই খাবার এড়িয়ে চলেন। রালস্টনের মতে, এই ভয় মূলত ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল দুধের সঙ্গে খেলে দুধ নষ্ট হয়ে যায়, এমন ধারণা থেকে এসেছে। যা পেটের সমস্যার কারণ হতে পারে বলে মনে করা হয়।

তবে তিনি স্পষ্ট করেন, দুধ কেটে যাওয়ার এই প্রক্রিয়াটি মোটেই অস্বাভাবিক নয়। বরং এটি আমাদের শরীরের ভিতরেই স্বাভাবিকভাবে ঘটে।

রালস্টনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দুধে থাকা কেসিন প্রোটিন সাধারণত একে অপরকে বিকর্ষণ করে, যার ফলে দুধ তরল অবস্থায় থাকে। কিন্তু দুধের সঙ্গে লেবুর রস বা ভিনিগারের মতো অ্যাসিডিক উপাদান মেশালে পিএইচ কমে যায়। তখন কেসিন প্রোটিনের বৈশিষ্ট্য বদলে যায় এবং তারা একে অপরকে আকর্ষণ করতে শুরু করে, ফলে দুধ কেটে যায়।

অনেকের মনে হতে পারে, দুধের গঠন বদলে গেলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু রালস্টনের মতে, এই ধারণা ভুল। পনির তৈরিও ঠিক একই প্রক্রিয়ায় হয়। শুধু তাই নয়, আমাদের পাকস্থলীতেও দুধ স্বাভাবিকভাবেই কেটে যায়। পাকস্থলীর অ্যাসিড হজম প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে দুধকে জমাট বাঁধায়।

তিনি আরও বলেন, “আপনি যদি একেবারে খাঁটি দুধও পান করেন, সেটিও পাকস্থলীতে গিয়ে কেটে যাবে। তাই ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফলের সঙ্গে দুধ খেলে তা দুধ নষ্ট করে বা খাবারকে অস্বাস্থ্যকর করে তোলে, এই ধারণার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।”

বিশেষজ্ঞের মতে, ফল ও দুধ একসঙ্গে খেলে সাধারণভাবে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা নেই, যদি না কেউ ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট হন বা আগে থেকেই অন্ত্রসংক্রান্ত সমস্যা থাকে। যেহেতু দুধ পাকস্থলীতে স্বাভাবিকভাবেই কেটে যায়, তাই এই খাদ্যসংমিশ্রণ নিয়ে ভয়ের কোনও কারণ নেই বলেই জানিয়েছেন ফিটনেস কোচ।