যে কোনও দম্পতির কাছে সন্তান সুখ জীবনের একটি বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। আধুনিক জীবনে গর্ভধারণে বেশ অনেকটাই দেরি হতে দেখা যায় কিংবা বার বার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন অনেকেই। আজকাল কর্মব্যস্ততার জীবনে ভুল খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চায় অনিয়ম সহ একাধিক কারণে অল্প বয়সেই জাঁকিয়ে বসছে বিভিন্ন অসুখ। প্রভাব পড়ছে যৌন জীবনেও। কমবয়সিদের মধ্যেও বন্ধ্যাত্বের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে নিয়মিত কী কী খাওয়া উচিত? সেবিষয়ে জানালেন আভা সার্জি সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ কনসালটেন্ট ড. বাণী কুমার মিত্র।
যারা সন্তান ধারণের পরিকল্পনা করছেন বা প্রজনন স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে চান, তাদের জন্য সঠিক খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের হরমোনের ভারসাম্য, ডিম্বাণু বা শুক্রাণুর স্বাস্থ্য, গর্ভধারণ এবং সুস্থ গর্ভাবস্থা- সবকিছুই খাবারের সঙ্গে জড়িত।
হরমোন শরীরের বার্তা পৌঁছয় এবং প্রজনন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে। প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি এবং অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট খেলে হরমোনের ভারসাম্য ভেঙে যেতে পারে। বিশেষ করে পিসিওস-এর মতো সমস্যা খারাপ খাদ্যাভ্যাসে আরও বাড়ে।
পুরুষদের জন্যও পুষ্টি সমান গুরুত্বপূর্ণ। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার শুক্রাণুকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে, গতি ও মান উন্নত রাখে। জিঙ্ক, সেলেনিয়াম এবং ওমেগা‑৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শুক্রাণুর স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
নিয়মিত কী কী খাবেন
ব্রাউন রাইস, ওটস, মিলেট রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণ ও হরমোন স্থিতিশীল রাখে।
বাদাম, বীজ, অ্যাভোকাডো, কোল্ড-প্রেসড তেল হরমোন তৈরিতে সহায়ক।
ডাল, দুগ্ধজাত খাবার, ডিম, মাছ, চর্বিহীন মাংস-শরীর ও ভ্রূণ বিকাশে সাহায্য করে।
শাকসবজি, বেরি, সাইট্রাস, রঙিন সবজি-অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফোলেট ও ফাইবার সরবরাহ করে।
দই ও ফারমেন্টেড খাবার হজম ও পুষ্টি শোষণ বাড়ায়।
পর্যাপ্ত জল পানও জরুরি। যা শরীরে রক্তসঞ্চালন, পুষ্টি শোষণ এবং শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে।
আইভিএফ বা অন্যান্য সাহায্যপ্রাপ্ত চিকিৎসা চলাকালীন সঠিক পুষ্টি জোগানও জরুরি। ফলিক অ্যাসিড, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সন্তানধারণের জন্য অপরিহার্য। একইসঙ্গে কফি, অ্যালকোহল, ধূমপান ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়ানো উচিত।
মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। স্ট্রেস, অনিয়মিত রুটিন ও পর্যাপ্ত না ঘুমালে শরীরে খাবারের প্রভাব কমে যায়। তাই মা-বাবা হতে চাইলে স্ট্রেস কমানো, হালকা ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। সঠিক পুষ্টি ও সচেতন জীবনধারা শরীরকে সন্তান ধারণের জন্য প্রস্তুত করে।
